বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

​নিবন্ধন আছে, নিয়ন্ত্রণ নেই—ইজিবাইকের চাপে হাঁসফাঁস মাগুরা শহর

​ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে মাগুরা শহরে পরিকল্পনাহীনভাবে ইজিবাইকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন চরম যানজট বাড়ছে, যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।​সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের প্রধান সড়কগুলোতে ইজিবাইকের বিশৃঙ্খল চলাচল এবং যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামার কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল প্রায়ই স্থবির হয়ে পড়ছে। ইজিবাইক চালকদের দাবি, বিশেষ করে স্কুল ছুটির সময় রাস্তাগুলোতে মানুষের চাপে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, তখন গাড়ি চালানোই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, যানজটের একটি বড় কারণ হলো মোটরসাইকেল আরোহীদের বেপরোয়া গতি এবং হুটহাট ব্রেক কষার প্রবণতা, যা পেছনের যানবাহনের গতি কমিয়ে দেয় এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি করে।
​পাশাপাশি, রাস্তার মোড়ে মোড়ে গড়ে ওঠা ভ্রাম্যমাণ দোকানের (ভন্ডা) কারণে রাস্তা সরু হয়ে যাওয়াকেও যানজটের জন্য দায়ী করছেন অনেকে। পৌর কর্তৃপক্ষ ইজিবাইকের নিবন্ধন প্রদান ও সমিতির মাধ্যমে পরিচালনার ব্যবস্থা করলেও, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে এই পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি ঘটছে না বলে অভিযোগ শহরবাসীর।
​স্থানীয়দের প্রশ্ন—পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কি কেবল নিবন্ধন প্রদান ও রাজস্ব আদায় পর্যন্তই সীমাবদ্ধ? নাকি নাগরিকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করাও তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব?
​স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। কর্মসংস্থান ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য আনতে এখনই কার্যকর ট্রাফিক পরিকল্পনা ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মাগুরাবাসী। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মাগুরা শহরের যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং