দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে একটি দ্রুতগতির ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় যাত্রীবাহী অটোরিকশার চার যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ঘাতক ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং রংপুর-দশমাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
আজ রোববার (২৪ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রানীরবন্দর বাজারের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দশমাইল এলাকা থেকে সৈয়দপুরগামী একটি দ্রুতগতির ড্রাম ট্রাক রানীরবন্দর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে বিপরীতমুখী একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে সামনে থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালকসহ চারজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই চালক পালিয়ে গেলেও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক ড্রাম ট্রাকটি ঘটনাস্থলেই আটক করে। চালকের বেপরোয়া গতি ও খামখেয়ালিপনার অভিযোগে উত্তেজিত জনতা ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পৌঁছালেও স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র বাধার মুখে পড়ে তারা। শেষ পর্যন্ত আগুন না নিভিয়েই ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ফিরে যেতে হয়।
মহাসড়ক অবরোধ ও পুলিশের বক্তব্য:
দুর্ঘটনার পর থেকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রংপুর-দশমাইল মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে সড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী জানান:
“দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে রংপুর-দশমাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।”
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে।


