চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ৪ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে এই বিচার প্রক্রিয়া চলছে। আজ দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে মামলার জবানবন্দি রেকর্ডকারী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ৬ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে তাঁদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। এর আগে গতকাল বুধবার (১০ জুন) মামলার প্রথম দিনে বাদী এবং ভুক্তভোগী শিশুসহ একযোগেই ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ সংবাদমাধ্যমকে জানান, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কাজ চলছে। গত ৯ জুন এই মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠনের (চার্জশিট) মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে গত ৪ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা প্রতিবেদন (মেডিকেল রিপোর্ট), ডিএনএ (DNA) টেস্টের ফলাফল, ঘটনার পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আদালতে আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এসব জোরালো প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এই মামলায় মোট ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠ সংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে এই নৃশংস ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী চার বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেন (৩০) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকার মিয়াখাননগরে বসবাস করছিলেন। বর্তমানে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।


