বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খয়েরপুকুর হাটে ডেন্টাল কেয়ার দখলের অভিযোগ

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার খয়েরপুকুর হাটে একটি ডেন্টাল চিকিৎসা কেন্দ্র জোরপূর্বক দখল, মালিককে মারধর এবং বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র লুটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (১৫ জুন) রাত প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর হরিরামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুকুর হাট এলাকায় অবস্থিত ‘আদর্শ স্বাস্থ্য ডেন্টাল কেয়ার’-এ এ ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আশরাফুল মিলন দাবি করেন, একটি সংঘবদ্ধ দল তার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে জোরপূর্বক বের করে দেয় এবং প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পূর্ব হোসেনপুর গাছুয়াপাড়া গ্রামের মৃত মাহমুদুন নবী চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদুন নবী চৌধুরীর কাছ থেকে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক ভাড়ায় দোকানটি গ্রহণ করেন আশরাফুল মিলন। এরপর থেকে তিনি সেখানে নিয়মিত ডেন্টাল চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দোকানটির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে ফুয়াদুন নবী চৌধুরীর চাচা মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মাহবুব রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, চাকু ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ডেন্টাল কেয়ারে প্রবেশ করে হামলা চালান। এ সময় তারা আশরাফুল মিলনকে মারধর করে জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেন।
আশরাফুল মিলন বলেন,
“আমি দীর্ঘদিন ধরে খয়েরপুকুর হাটে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। হঠাৎ করেই একটি সংঘবদ্ধ দল আমার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে আমাকে মারধর করে এবং জোরপূর্বক বের করে দেয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানে থাকা ডেন্টাল চেয়ার, সার্জিক্যাল সেট, ডেন্টাল ক্যাপসহ বিভিন্ন চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং কয়েকটি ব্যাংকের চেক বই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পর আশরাফুল মিলন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে মধ্যপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই বাবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে দোকানে প্রবেশ করে মালিককে বের করে দেয়। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত চলছে
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ভুক্তভোগী আশরাফুল মিলন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রতিষ্ঠানটি দখলমুক্ত করে ফেরত প্রদান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং