কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত কৃষক হজরত আলীর (৩৫) মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ট্রলিতে রাখা ছিল। বাবার নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে তাঁর ১০ বছর বয়সী ছেলে বাপন ও পাঁচ বছরের মেয়ে কুলসুম। ছোট বোনকে বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিল বাপন, তবে কিছুক্ষণ পরপরই আবার ডুকরে কেঁদে উঠছিল সে। সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য দেখা যায়।
নিহত হজরত আলী উপজেলার জয়ন্তী হাজরা গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে গ্রামের কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস শকীব খান জানান, হজরত আলী অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। তিনি স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান রেখে গেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় জয়ন্তী হাজরা গ্রামে বজ্রপাতে হজরত আলীর মৃত্যু হয়। একই সময়ে পৃথক স্থানে এক স্কুলছাত্রীসহ আরও তিনজন আহত হন।
আহতরা হলেন— শিমুলিয়া ইউনিয়নের কালীশংকপুর গ্রামের আজিজুলের মেয়ে ও চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী অন্তরা (১০), বিলজানি গ্রামের আনিস মোল্লার স্ত্রী ডলি খাতুন (২০) এবং খোকসা-পাংশা সীমান্তবর্তী হলুদবাড়িয়া গ্রামের রুবেল হোসেনের স্ত্রী সোমা পারভিন (২৫)। তাঁদের খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বজনদের ভাষ্য, বিকেলে আকাশে মেঘ জমতে দেখে মাঠে কেটে রাখা ধানের আঁটি গোছাতে যান হজরত আলী। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাঠে পড়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শারমিন আকতার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই কৃষকের মৃত্যু হয়েছিল।
হজরত আলীর ভাতিজা বাপ্পী বলেন, “কেটে রাখা ধান ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় চাচা মাঠে গিয়েছিলেন। বজ্রপাতের পর তাঁকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনি আর বেঁচে নেই।”


