কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা-র বাকশিমুল ইউনিয়নের আনন্দপুর-নোয়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় ঈদের পবিত্রতাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছেএমন বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ কারবার যেন এখন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দৃশ্যমান ও কার্যকর অভিযান না থাকায় মাদক চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনন্দপুর-নোয়াপাড়া সীমান্তটি এখন মাদক পাচারের অন্যতম ‘নিরাপদ করিডর’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের ওপার থেকে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য এনে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। ঈদের দিনেও সন্দেহজনক মোটরসাইকেল ও নৌপথে যাতায়াত লক্ষ্য করা গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে বিল্লাল মিয়া (মা: পারভীন আক্তার) দীর্ঘদিন ধরে এই মাদক সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার সহযোগী হিসেবে মো. জমির মিয়া (পিতা: বাচ্চু মিয়া) ও আব্দুল হক দেলু নামের আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।
এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“ঈদের দিনেও যখন মাদক বেচাকেনা হয়, তখন বুঝতে হবে এরা কতটা শক্তিশালী। আমরা প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার করা হলেও দৃশ্যমান ফল মিলছে না। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানা-র কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে খাড়েরা বিজিবি ক্যাম্প সূত্রে জানানো হয়েছে, তারা নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সচেতন মহলের অভিমত, সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী চেকপোস্ট, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং অভিযোগভিত্তিক টার্গেটেড অভিযান ছাড়া এই চক্র ভাঙা সম্ভব নয়। তারা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—ঈদের মতো পবিত্র দিনেও যেখানে অপরাধ থামে না, সেখানে এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়বে। আনন্দপুর-নোয়াপাড়া সীমান্তকে মাদকমুক্ত করতে সমন্বিত অভিযানই এখন সময়ের দাবি।


