বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আটোয়ারীতে প্রবল ঝড় ও শিলাবৃষ্টি

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় গত রাতে বয়ে যাওয়া প্রবল কালবৈশাখী ঝড় ও আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাত্র কয়েক মিনিটের এই তণ্ডবলীলায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘরবাড়ি, গাছপালাসহ আম ও লিচুর মুকুল এবং উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক এই দুর্যোগে সহায়-সম্বল হারিয়ে কৃষকের এখন “মাথায় হাত” দেওয়ার দশা।
ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে আটোয়ারীর গ্রামগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন দেখা গেছে:
অসংখ্য কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে অনেক ঘরের চাল ধুমড়ে-মুচড়ে গেছে। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় অনেক এলাকা এখনো অন্ধকারাচ্ছন্ন।
শিলাবৃষ্টির আঘাতে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি জমি। বিশেষ করে ভুট্টা, গম এবং বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝরন্ত শিলার আঘাতে চারা গাছগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে।
আম এবং লিচুর মুকুলে ভরা বাগানগুলো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চাষিদের মতে, এবারের মৌসুমে ভালো ফলনের আশা থাকলেও শিলাবৃষ্টির কারণে অধিকাংশ মুকুল ঝরে পড়েছে।
কৃষকদের আর্তনাদ
উপজেলার তোড়িয়া ও বলরামপুর এলাকার কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বললে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক কৃষক বলেন:
“অনেক ধার-দেনা করে এবার ভুট্টা আর ধান লাগিয়েছিলাম। কয়েক মিনিটের বৃষ্টিতে আমার সব শেষ হয়ে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব আর ঋণের টাকাই বা কীভাবে শোধ করব, তা ভেবে পাচ্ছি না।”
প্রশাসনের তৎপরতা
স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন শুরু করেছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রকৃতির এই আকস্মিক রুদ্রমূর্তিতে আটোয়ারীর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দ্রুত সরকারি সাহায্য এবং কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ না করলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কৃষকদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং