শনিবার,২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মুক্তির পরই উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসের সেরা ২০–এ ‘বনলতা এক্সপ্রেস’

উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে মুক্তির পরই সাড়া ফেলেছে তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। মুক্তির প্রথম তিন দিনেই ছবিটি গড়েছে রেকর্ড। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্মিলিত (ডমেস্টিক) বক্স অফিস চার্টে সেরা ২০-এর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি সিনেমা এই বক্স অফিসের সেরা ২০-এ জায়গা করে নিল। বক্স অফিসের তথ্য বিশ্লেষণ করা ওয়েবসাইট বক্স অফিস মোজোর তথ্যমতে, উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে ছবিটির অবস্থান ১৬–তে। মাত্র তিন দিনে ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার মার্কিন ডলারে। ছবিটির উত্তর আমেরিকার পরিবেশক স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব ফেসবুকে খবরটি জানিয়ে লিখেছেন, ‘গত ৩ দিনে কানাডা ও আমেরিকার বক্স অফিসে “বনলতা এক্সপ্রেস” যা ঘটাল, সেটাকে “সুনামি” বললেও সঠিক বলা হচ্ছে না মনে হয়। এটা অবিশ্বাস্য অন্য রকম কিছু।’ পোস্টে অলিউল্লাহ সজীব আরও জানিয়েছেন, এর আগে উত্তর আমেরিকায় প্রথম তিন দিনে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড ছিল মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’ ছবির, যার আয় ছিল ১ লাখ ৫৯ হাজার ডলার। তবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর এই সূচনা সেই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি গিয়ে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ‘হাওয়া’ ছাড়া আর কোনো বাংলাদেশি ছবি প্রথম ৩ দিনে ৬৫ হাজার ডলারের গণ্ডিও পার করতে পারেনি। শুধু ওপেনিং দিয়েই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ইতিমধ্যে উত্তর আমেরিকায় সর্বকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে। পেছনে ফেলেছে ‘তুফান’ (১ লাখ ৫০ হাজার ডলার), ‘প্রিয়তমা’ (১ লাখ ৩২ হাজার ডলার) ও ‘দেবী’কে (১ লাখ ২৫ হাজার ডলার), যেগুলো তাদের পুরো প্রদর্শনকাল মিলিয়ে এই আয় করেছিল। প্রথম তিন দিনের পারফরম্যান্স দেখে ধারণা করা হচ্ছে, ‘হাওয়া’র লাইফটাইম আয়ের (৩ লাখ ৫৮ হাজার ডলার) কাছাকাছি যেতে পারে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এমনকি প্রথম সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই ছবিটি উত্তর আমেরিকায় সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী বাংলাদেশি সিনেমা হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করছেন ছবিটির উত্তর আমেরিকার পরিবেশক। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ পরিচালনা করেছেন তানিম নূর। ছবির প্রধান চরিত্রের অভিনয়শিল্পীরা হলেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ, সাবিলা নূর, শ্যামল মাওলা, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, শামীমা নাজনীন, ইন্তেখাব দিনার, আরেফিন জিলানী প্রমুখ। প্রযোজনায় আছে বুড়িগঙ্গা টকিজ, সহপ্রযোজনায় হইচই

আসিফ মাহমুদের অভিযোগের জবাবে কী বললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল

বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে আইসিসিকে জানানো হবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অভিযোগ, তথ্য–প্রমাণ ও সাক্ষাৎকারসহ এক হাজারের বেশি পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনটি মোট ছয়টি বই আকারে আজ দুপুরে এনএসসিতে জমা দিয়েছে কমিটি। এরপর বিকেলে বিকেএসপিতে পরিদর্শনে গিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আন্তমন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠক ডেকেছিলাম। সেখানে আলাপ–আলোচনা করেছি (প্রতিবেদন নিয়ে)। আমরা আইসিসিকে তদন্ত রিপোর্টটি অবগত করার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’ গত বছরের ৭ অক্টোবর বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলর মনোনয়ন ও ক্লাব ক্যাটাগরির নির্বাচনে অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় একটি পক্ষ। তাদের অভিযোগ ছিল—সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধেও। তদন্ত কমিটি তাঁকে ডাকলেও তাতে সাড়া দেননি আসিফ মাহমুদ। তিনি পরে ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় এবং বিসিবির স্বায়ত্তশাসন লঙ্ঘনের মতো ‘এখতিয়ার–বহির্ভূত’ কাজে অংশ না নিতেই সাক্ষাৎকারের নোটিশে সাড়া দেননি তিনি। আসিফ মাহমুদের তদন্ত কমিটির মুখোমুখি না হওয়া প্রসঙ্গে আমিনুল বলেন, ‘ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের কাছে জমা হয়েছে। তিনি অংশগ্রহণ করেননি, নিশ্চয়ই তদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে তা রয়েছে। আমরা সেটি যাচাই–বাছাই করেছি, তিনি উপস্থিত হননি। আমি আইসিসির সঙ্গে কথা বলে আপনাদের সিদ্ধান্ত জানাব।’ এ পর্যন্ত বিসিবির ২৫ পরিচালকের ৭ জনই পদত্যাগ করেছেন। আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, পরবর্তী বোর্ডে রাখার লোভ দেখিয়ে এবং তাতে কাজ না হলে ভয় দেখিয়ে পরিচালকদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করছেন আমিনুল। এই অভিযোগের জবাবে আমিনুল বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না এটি সম্পর্কে। ফেসবুকে সত্য কথাও দেখি, মিথ্যা কথাও দেখি। তিনি সত্য বলেছেন কি মিথ্যা, এটা আপনাদের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। আপনারা এটা যাচাই করে নেন।’ এর আগে দুপুরে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কমিটির প্রধান সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্র সংশোধন ও ভবিষ্যতে বিসিবি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

১৪০ মিলিয়ন ডলার আয়, বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে যে সিনেমা

মুক্তির পরই বিশ্বজুড়ে ১৪০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় ওপেনিংয়ের রেকর্ড গড়েছে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’। সায়েন্স ফিকশন সিনেমাটির কেন্দ্রে আছেন রায়ান গসলিং, যিনি সাধারণ এক বিজ্ঞান শিক্ষক থেকে মানবজাতিকে রক্ষার দায়িত্ব নেওয়া নায়ক হয়ে ওঠেন। হঠাৎ করেই এক মহাকাশ মিশনে জড়িয়ে পড়েন তিনি—পৃথিবীকে এক ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা যাঁর লক্ষ্য। অ্যান্ডি উইয়ারের উপন্যাস থেকে গল্পটি তৈরি হয়েছে। তাঁর আগের বই অবলম্বনে তৈরি ‘দ্য মার্শিয়ান’ সিনেমাটিও প্রশংসা কুড়িয়েছিল। ছবিটি পরিচালনা করেছেন ফিল লর্ড ও ক্রিস্টোফার মিলার, যাঁরা এর আগে ‘২১ জাম্প স্ট্রিট’, ‘দ্য লেগো মুভি’র মতো জনপ্রিয় কাজ করেছেন। তাঁদের হাত ধরে প্রজেক্ট হেইল মেরি হয়ে উঠেছে ভিজ্যুয়ালি আকর্ষণীয় ও আবেগঘন এক মহাকাশ অভিযান। ২০ মার্চ মুক্তির পরই সিনেমাটি ছাড়িয়ে গেছে স্ক্রিম ৭-কে, যেটি ছিল এ বছরের আগের সবচেয়ে বড় ওপেনিং। প্রযোজনা সংস্থা অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওজের জন্যও এটি বড় এক সাফল্য, বিশেষ করে ৮ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে এমজিএম অধিগ্রহণের পর এটি তাদের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক হিট হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিনেমাটি নিয়ে সমালোচকদের মতামত মিশ্র। কেউ বলছেন, এটি ‘চিন্তাকে প্রসারিত করা সায়েন্স ফিকশন’, যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপভোগ্য। আবার কেউ মনে করছেন, গল্পে কিছুটা পরিচিত ছক রয়েছে, এমনকি ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ইন্টারস্টেলার’–এর ছায়াও পাওয়া যায়। তবে প্রায় সবাই একমত—গসলিংয়ের অভিনয়ই ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরীক্ষায় পাশ করল দক্ষিণ আফ্রিকা

পরীক্ষা নিরীক্ষার টি-টুয়েন্টি সিরিজটা জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। নতুনদের ঝালিয়ে দেখার সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের এই সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে প্রোটিয়ারা। আজ ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের শেষ টি-টুয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৩৩ রানে হারিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে কেশব মহারাজের দল। টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা করেছিল ৪ উইকেটে ১৮৭ রান। ১৮৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৫৪ রানে থেমেছে স্বাগতিকেরা। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ জেতার মূল কৃতিত্বটা পাবেন ব্যাটসম্যান কনর ইস্টারহাউজেন। ৩৩ বলে ৫ চার ও ৬ ছক্কায় ৭৫ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটসম্যান। তিনি উইকেটে আসেন ১১তম ওভারে। তখন দক্ষিণ আফ্রিকার রান ২ উইকেটে ৭৬। সেখান থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ১৮৭ পর্যন্ত গেছে ইস্টারহাউজেনের কল্যাণে। এর আগে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ফিফটি করেছিলেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডারদের দায়ও আছে। বেশ কয়েকটি ক্যাচ ফেলেছে তারা। যদিও দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে রুবিন হারমানকে ফিরিয়েছেন নিক কেলি। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এসেছে রুবিন হারমানের ব্যাট থেকে, তিনি করেছেন ৩৯ রান। রান তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ২ রান করে ফেরেন কেটেন ক্লার্ক। টিম রবিনসন, ডেন ক্লিভাররাও ম্যাচ জেতানোর মতো ইনিংস খেলতে পারেননি। রবিনসন করেছেন ২৫, ক্লিভার ২২। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৯ বলে ৩৬ রান করেছেন বেভন জ্যাকবস। অধিনায়ক জিমি নিশাম করেছেন ২৪ বলে ২৪ রান। তবে এসব ইনিংস হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে। এর আগে সিরিজের প্রথম ও চতুর্থ ম্যাচ জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সংক্ষিপ্ত স্কোর দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৮৭/৪ (ইস্টারহাউজেন ৭৫, হারমান ৩৯; সিয়ার্স ২/৩৭, ফোকস ১/২২)। নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৫৪/৮ (জ্যাকবস ৩৬, রবিনসন ২৫; কোয়েৎজে ২/২১, মুল্ডার ২/২৮, বার্টম্যান ২/৩৩)। ফল:  দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৩ রানে জয়ী। সিরিজ: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩-২ ব্যবধানে জয়ী। ম্যাচ ও সিরিজসেরা: কনর ইস্টারহাউজেন।

বাংলাদেশের ‘আউট অব সিলেবাস’ প্রশ্নেই ফেল করেছে পাকিস্তান, মনে করেন আমির

মিরপুরে আজ নাহিদ রানার গতির ঝড়ে রীতিমতো উড়ে গেছে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২০৯ বল বাকি রেখেই ৮ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন নাহিদ রানা। তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান করেছেন ৪২ বলে ৬৭ রান। বাংলাদেশের এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন সাবেক পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির, তবে একই সঙ্গে পাকিস্তান দলের তীব্র সমালোচনাও। আমির মনে করছেন, বাংলাদেশের ‘আউট অব সিলেবাস’ কৌশলের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে পাকিস্তান। ম্যাচ শেষে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে পাকিস্তানের এই ভরাডুবি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন মোহাম্মদ আমির। তাঁর মতে, পাকিস্তান ভেবেছিল মিরপুরে হয়তো স্পিন উইকেট হবে; কিন্তু বাংলাদেশ ঘাসে ঢাকা বাউন্সি উইকেট বানিয়ে চমকে দিয়েছে। আমির বলেন, ‘বাংলাদেশ খুব স্মার্টলি খেলেছে। আমরা টার্নিং উইকেটের কথা ভাবছিলাম; কিন্তু ওরা বানিয়ে দিল গতির উইকেট। ঠিক যেন ‘‘আউট অব সিলেবাস’’ প্রশ্ন চলে এসেছে। ১৪০ প্লাস গতির বোলার দেখলেই আমাদের ব্যাটসম্যানরা লাফালাফি শুরু করে দেয়।’ পাকিস্তানের ব্যাটিং–ধসের পেছনে অনুশীলনের ত্রুটি দেখছেন আমির। নেটে শুধু বল ছুড়ে প্র্যাকটিস করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পাওয়ার হিটিং বা ডিফেন্স মানে এই নয় যে কেউ ওপর থেকে বল ছুড়ে দিচ্ছে আর আপনি খেলছেন। আসল পেসের বিপক্ষে খেলার সামর্থ্য থাকতে হবে। মাজ সাদাকাত বা শামিল হোসেনদের মতো তরুণদের টেকনিকে অনেক ভুল আছে। তারা শুধু মিড-উইকেটে খেলতে চায়, অফ স্টাম্পের বল বোঝে না।’ পাকিস্তানের এই দলটাকে একেবারেই ভারসাম্যহীন মনে করেন আমির। এ জন্য পিসিবির নির্বাচকদেরও একহাত নিয়েছেন এই সাবেক পেসার। কামরান গোলাম বা ইরফান খান নিয়াজির মতো পারফমারদের সুযোগ না দিয়ে অপরিপক্ব খেলোয়াড়দের দলে নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আমির বলেছেন, ‘আমরা এখন বাংলাদেশের কাছেও হারতে শুরু করেছি। আমার ভয় লাগছে, শেষ পর্যন্ত আমরা অ্যাসোসিয়েট দল না হয়ে যাই। ৫-৬ জন সিনিয়রকে বাদ দিয়ে শুধু তরুণদের দিয়ে দল হয় না। দলে সিনিয়র-জুনিয়রদের ভারসাম্য থাকতে হবে।’ বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে আমির বলেছেন, ‘তারা আমাদের এমনভাবে মেরেছে যেন মনে হচ্ছিল অনেক মজা পাচ্ছে। যে উইকেটে আমরা ১১৪ রান করলাম, সেই উইকেটে তারা ১০-১২ ওভারে রান তাড়া করে ফেলেছে।’ আমির তাঁর উত্তরসূরিদের সতর্ক করে বলেছেন, ‘আমি আপনাদের বলে দিই, বাংলাদেশ আপনাদের কোনো স্পিন ট্র্যাক দেবে না। তারা এমন উইকেটই দেবে। তাদের তিনজন ফাস্ট বোলারই শক্তিশালী,  যারা ১৩৫-১৪০ গতিতে বল করে, বিশেষ করে নাহিদ রানা। তারা সিরিজ জেতার জন্য এই সুযোগটাই নেবে।’  

সেমিফাইনালের জন্য ‘বিশেষ কিছু’ জমিয়ে রেখেছেন অভিষেক

টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল বলে কথা! সামনে ইংল্যান্ড। এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে ভারতের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম অভিষেক শর্মা। ব্যাটে রান নেই, সেই চেনা ধার নেই, আত্মবিশ্বাসও যেন তলানিতে। কিন্তু খোদ রিকি পন্টিং যখন অভয়বাণী শোনান, তখন অতি বড় সমালোচককেও দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের বিশ্বাস, সেমিফাইনালের জন্য নিজের ঝুলিতে বিশেষ কিছু জমিয়ে রেখেছেন ভারতের বাঁহাতি ওপেনার। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অভিষেকের যাত্রাটা বলা যায় এক দুঃস্বপ্নের মতো। শুরুতেই টানা তিনটি ম্যাচে শূন্য রানে আউট। এরপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আসে ফুড পয়জনিং। অসুস্থতার কারণে নামিবিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি তিনি খেলতেই পারলেন না। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫ রান করে রানের খাতা খুললেও সেই ১২ বলের ইনিংসে ছিল কেবল ছটফটানি আর মরিয়া হয়ে ব্যাটে বল লাগানোর চেষ্টা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ৩০ বলে ৫৫ রান করে কিছুটা স্বস্তি দিলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আবার সেই ১০ রানে আউট। ৬ ইনিংসে মোটে ৮০ রান, এর মধ্যে তিনবারই শূন্য। পরিসংখ্যানটা অভিষেকের নামের সঙ্গে বড্ড বেমানান। তবু পন্টিং হাল ছাড়ছেন না। আইসিসি রিভিউ-তে সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমার মনে হয়েছিল, অভিষেকই হবে এবারের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। সেটা হয়নি ঠিকই, কিন্তু আমি এখনো ওর ওপরই বাজি ধরছি।’ ‘আমার মনে হচ্ছে, সেমিফাইনালের জন্য অভিষেক বিশেষ কিছু জমিয়ে রেখেছে।’ রিকি পন্টিং পন্টিং মনে করেন, ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ বেশ গভীর বলেই অভিষেকের অফ-ফর্ম খুব একটা

পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার গুঞ্জন, বিসিবি কী বলছে

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বাংলাদেশে আসার কথা আগামী সপ্তাহে। কিন্তু পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এই সফর। এদিকে বিসিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, সিরিজটি সূচি অনুযায়ী চলবে ধরে নিয়েই এখন পর্যন্ত দুই ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশে আসার সম্ভাব্য ফ্লাইট কোনটি হলে ভালো হয়, পিসিবি সে বিষয়ে এখন কাজ করছে বলে জানায় বিসিবির এই সূত্র। গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিসিবির ঘোষণা করা সূচি অনুযায়ী, ৯ মার্চ ঢাকায় পৌঁছাবে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ। পরদিন পাকিস্তান দলের ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা। বিসিবি সূত্র বলছে, কাছাকাছি সময়ে ঈদুল ফিতর থাকায় পাকিস্তান দলের ফেরার দিনক্ষণ নিয়ে ভাবছে পিসিবি। বর্তমানে পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে এবং ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় অস্থিরতা ও আতঙ্কাবস্থা বিরাজ করছে। জিও সুপার জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফরটি এখন অনিশ্চিত। সিরিজ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ভ্রমণঝুঁকি বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত শঙ্কা না বাড়লে তবেই সিরিজটি আয়োজন করা হবে।   এই সিরিজের দল নিয়ে শিগগিরই পিসিবিতে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠেয় ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে এখন মনোযোগ পাকিস্তান দলের। জিও সুপারকে সূত্রের দাবি, নির্বাচক কমিটি দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। খারাপ ফর্মে থাকা বাবর আজম, সাইম আইয়ুব ও মোহাম্মদ নেওয়াজদের বাদ দিয়ে তরুণদের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।   গত বছরের নভেম্বরে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে পাকিস্তান দল। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজটিতে সালমান আগার দল জিতেছিল ৩–০ ব্যবধানে।

স্যামসন–ঝড়ে সেমিফাইনালে ভারত

বলটা সীমানা ছুতেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন সঞ্জু স্যামসন। দুই হাত প্রসারিত করে তিনি তাকান আকাশের দিকে—ইডেনের গ্যালারি থেকে ভেসে আসা উচ্ছ্বাসের গর্জনের মধ্যেই স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞতা জানান। ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে রবি শাস্ত্রী তখন দারাজ কণ্ঠে বলছেন, ‘সঞ্জু স্পেশাল স্যামসন।’ আসলেই তো! বিশ্বকাপে টিকে থাকার ম্যাচে ১৯৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭, বিশেষ কিছু তো অবশ্যই। ১২ চার আর ৪ ছক্কায় সাজানো স্যামসনের এই ইনিংসে ভর করেই সুপার এইটের শেষ ম্যাচে কাল কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। এ জয়ে নিশ্চিত হয়েছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মুম্বাইয়ে তাদের সেমিফাইনালে খেলাও। আক্ষরিক অর্থেই কোয়ার্টার ফাইনাল হয়ে যাওয়া ম্যাচে আগে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ রান কম করেনি, ৪ উইকেটে ১৯৫। কিন্তু স্যামসনের ইনিংসে সেই রানটাই কী সহজে পেরিয়ে গেল ভারত! অভিষেক শর্মা ১১ বলে ১০, ঈষান কিষান ৬ বলে ১০ আর সূর্যকুমার যাদব যখন ১৬ বলে ১৮ রান করে আউট হলেন; কিছুক্ষণের জন্য মনে হয়েছিল, হয়তো খুব সহজ হবে না ভারতের জয়। কিন্তু একের পর এক বাউন্ডারি মেরে স্যামসন সেই সামান্য শঙ্কাও উড়িয়ে দিলেন। রান তাড়ায় একবারই কিছুটা চাপে পড়েছিল ভারত। ১০ থেকে ১২ ওভার পর্যন্ত কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেনি তারা। ওই ১৮ বল থেকে তারা করে মাত্র ১৩ রান। কিন্তু স্যামসন আর তিলক ভার্মা মিলে শামার জোসেফের করা ইনিংসের ১৩ নম্বর ওভারে ৪ চারে ১৭ রান নিয়ে আবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন ম্যাচ। ২৬ বলে তিলকের সঙ্গে ৪৬ রানের ওই জুটিই ম্যাচটাকে ভারতের একেবারে হাতে নিয়ে আসে। ভারতের হয়ে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রান তাড়ায় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের রেকর্ডটা এত দিন ছিল বিরাট কোহলির। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোহলি করেছিলেন ৮২ রান। কাল সেটাও ছাড়িয়ে গেছেন স্যামসন। বোলিংয়ে খুব সাদামাটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবশ্য কাল ব্যাট হাতে ২০০ পেরোনোর আশাও জাগিয়েছিল। ক্যারিবীয়দের প্রথম উইকেট নেওয়ার জন্যই ভারতকে অপেক্ষা করতে হয় ইনিংসের নবম ওভার পর্যন্ত। নিজের প্রথম ওভার করতে এসে ৩৩ বলে ৩২ রান করা হোপকে বোল্ড করেন বরুণ চক্রবর্তী। ৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙেও তেমন স্বস্তি পাচ্ছিল না ভারত। কারণ, ততক্ষণে শুরু হয়ে গিয়েছিল শিমরন হেটমায়ারের ঝড়। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৯ ছক্কার রেকর্ড গড়েন তিনি, ওয়েস্ট ইন্ডিজও গড়ে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৭০ (পরে তা হয়েছে ৭৬) ছক্কার রেকর্ড। বুমরাকে তাই ফেরানো হয় ১২তম ওভারে। এক ওভারেই হেটমায়ারের পর চেজকেও (২৫ বলে ৪০) আউট করেন। একপর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ছিল ৪ উইকেটে ১১৯। সেখান থেকে রোভম্যান পাওয়েল ও জেসন হোল্ডার মিলে ৩৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭৬ রানের জুটি গড়েন। তবু তাদের রানটা ২০০ পেরোতে পারেনি ১৯তম ওভারে অর্শ্বদ্বীপ সিং মাত্র ৬ রান দেওয়ায়। অবশ্য স্যামসন কাল যে ছন্দে ছিলেন, তাতে ২০০ রানের বেশি করেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ জিততে পারত কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।  

নাটকীয় জয়ের পরও পাকিস্তানের বিদায়, সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড

ম্যাচ শেষে দুই দলেরই মন খারাপ। দাসুন শানাকা হাঁটু ধরে নুইয়ে পড়লেন হতাশায়। ম্যাচটা জেতায় পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের কারও নেই কোনো উচ্ছ্বাস। কারণ, ম্যাচটা তাদের শুধু জিতলেই হতো না, সেমিফাইনালে যেতে মেলাতে হতো আরও সমীকরণ। পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ রানের জয়ে রান রেটে তারা টপকে যেতে পারেনি নিউজিল্যান্ডকে। সুপার এইটের এক নম্বর গ্রুপ থেকে ইংল্যান্ডের সঙ্গী হয়ে সেমিফাইনালে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড। আগে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কার সামনে ২১৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ বা এর কম রানে আটকে রাখতে পারলে সেমিফাইনালে যেত তারা। কিন্তু পুরো ২০ ওভার খেলে শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেট হারিয়ে করেছে ২০৭ রান। শ্রীলঙ্কাকে সমীকরণের ভেতর আটকে রাখার সম্ভাবনা যে পাকিস্তান তৈরি করেনি, তা নয়। কিন্তু তাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ান প্রবান রত্নায়েকে। ১০০ রানের ভেতর ৫ উইকেট হারালেও ৩৭ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৭ বলে ৫৮ রানের জুটিতে পাকিস্তানের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা শেষ করে দিয়ে যান তিনি। পরে তো দাসুন শানাকা ম্যাচটা প্রায় জিতিয়েই দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কাকে। ইনিংসের শুরু থেকেই রান তোলার গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে থাকেন। তবে শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কাকে জয়ের জন্য করতে হতো ২৮ রান। প্রথম বলে চারের পর টানা তিন বলে ছক্কা মারেন। ২ বলে দরকার হয় ৬ রান। কিন্তু অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে করা শাহিন শাহ আফ্রিদির শেষ দুই বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি শানাকা। বিশেষ করে ওভারের শেষ বলটা সাদাচোখে ওয়াইড মনে হলেও আম্পায়ার কোনো সংকেত দেননি, ম্যাচ শেষে যা নিয়ে হতাশ মনে হয়েছে লঙ্কান ক্রিকেটারদের। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কাকে যেন বড় ব্যবধানে হারানো যায়, সেই চেষ্টা ভালোভাবেই করেছিলেন দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। তাঁদের দুজনের ৯৫ বলে ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি তো রেকর্ডই গড়ে ফেলেছে। বিশ্বকাপে যেকোনো উইকেটেই এখন এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি। ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ফখর ৪২ বলে ৮৪ রান করে দুশমন্ত চামিরার বলে বোল্ড হন। তবে সাহিবজাদা পেয়ে যান সেঞ্চুরি। এই পথেই তিনি এক বিশ্বকাপে বিরাট কোহলির সর্বোচ্চ ৩১৯ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান। ৬০ বলে ১০০ রান করে আউট হন তিনি, ইনিংসে ছিল ৯ চার ও ৫ ছক্কা। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৮টি ছক্কার রেকর্ডও গড়েছেন ফারহান। এই বিশ্বকাপে ৬ ইনিংস খেলে ৩৮৩ রান করেছেন ফারহান। এমন দুর্দান্ত শুরুর পরও পাকিস্তান বেশি দূর যেতে পারেনি বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। শেষ ৪ ওভারে ৩৪ রানে ৭ উইকেট হারায় তারা। দুই ওপেনার ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান ব্যক্তিগত সংগ্রহটা নিতে পারেননি দুই অঙ্কেও। পাকিস্তানের রানটা তাই জয়ের জন্য যথেষ্ট হলেও তাদের তুলতে পারেনি সেমিফাইনালে। সংক্ষিপ্ত স্কোর পাকিস্তান: ২০ ওভারে ২১২/৮ (ফারহান ১০০, ফখর ৮৪, উসমান ৮*; মাদুশঙ্কা ৩.৩৩, শানাকা ২/৪২)। শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ২০৭/৬ (শানাকা ৭৬*, রত্নায়েকে ৫৮, মিশারা ২৬; আবরার ৩/২৩, নেওয়াজ ১/২১)। ফল: পাকিস্তান ৫ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাহিবজাদা ফারহান।

মানুষ আবার সেটাকে নাটক না ভেবে নেয়, বিয়ে প্রসঙ্গে নাজনীন নীহা

ছোট পর্দার পরিচিত মুখ অভিনেত্রী নাজনীন নীহা। সম্প্রতি তিনি হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গায়েহলুদের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’। এর পর থেকেই ভক্ত–অনুরাগীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনাকল্পনা। তবে এই গুঞ্জনের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। কী বললেন তিনি? গায়েহলুদের সাজে একসঙ্গে দুটি হাত। এমন ছবি পোস্ট করার পর থেকেই ভক্তদের মন্তব্য, আসলেই কী বিয়ে করতে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। কেউ লিখেছেন, ‘মনটা ভেঙে গেল।’ তবে সেই ছবি নিয়ে ভিন্ন কথা বললেন এই অভিনেত্রী। নীহা বলেন, ‘গায়েহলুদের সাজে ছবি দেখে অনেকেই অনেক কিছু মনে করছেন। এটা আসলে আমাদের একটি ঈদ নাটকের দৃশ্যের ছবি।’ ঈদের জন্য নির্মিত হচ্ছে বিশেষ নাটক। এই নাটকে নীহার সহশিল্পী তৌসিফ মাহবুব। এটি পরিচালনা করছেন হাসিব হোসাইন। তিনি রাখি নামে পরিচিতি। তবে এখনো নাটকের নাম বলতে চান না নীহা। তিনি বলেন, ‘এখন নাটকের নাম বলা যাবে না। তবে আমার হাতের পাশের হাতটি তৌসিফ ভাইয়ের। ঈদের জন্য দারুণ একটি কাজ হবে। আশা করছি, নাটকটি দর্শক পছন্দ করবেন।’ গুঞ্জনের এই ছবি নিয়ে নীহা দৈনিক জনতার খবরকে বলেন, ‘আসলে অভিনয়টা তো মন থেকেই করি। যখন করি, তখন আসলে চেষ্টা করি পুরোটাই বাস্তবের মতো করে করার। তাই নাটকের অভিনয় মানুষ মাঝেমধ্যে বাস্তব ভেবে নেয়। এখন আবার ভাবতে হচ্ছে, সামনে হয়তো এমন হতে পারে যে যেদিন সত্যিকারের ইনশা আল্লাহ বলব, হয়তো কোনো দিন বাস্তবে বিয়ে করব, মানুষ আবার সেটাকে নাটক না ভেবে নেয়।’ এর আগে তৌসিফ মাহবুব ও নীহা জুটির নাটকগুলো দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। সর্বশেষ তাঁদের দেখা যায় ‘অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ’ নাটকে। এটি পরিচালনা করেছেন শিহাব শাহীন। নাটকটি দেখেছেন ৯০ লাখ দর্শক। এ ছাড়া এই জুটির কোটি দর্শকের বেশি দেখা নাটকের মধ্যে রয়েছে গত বছরের ‘চুপকথা’, ‘অনুরাগ’ নাটকগুলো। বেশির ভাগ রোমান্টিক নাটকে তাঁদের দেখা যায়।