শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাসের যাত্রাবিরতি পুনর্বহালের দাবি

 শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৩ আগস্ট ২০২৬ : হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেস বিরতিহীন ও এসএমএস দুটি বাস সার্ভিসের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ ও মিরপুরগামী সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। —এমন পরিস্থিতিতে ‘হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেস’ (বিরতিহীন) বাস সার্ভিসের শ্রীমঙ্গল শহরে পূর্বের যাত্রাবিরতি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের জনগণ ও ভুক্তভোগী যাত্রীবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গল শহরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্ট গ্র্যান্ড তাজ রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
শ্রীমঙ্গলের ভুক্তভোগী যাত্রী ও সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংস্কৃতি কর্মী ও সংগীতশিল্পী মো. তারেক ইকবাল চৌধুরী। তিনি শ্রীমঙ্গলের স্থায়ী বাসিন্দা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, মৌলভীবাজার কর্তৃক মনোনীত শ্রেষ্ঠ সংগীত শিল্পী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ উন্নয়ন সংস্থার শ্রীমঙ্গল শাখার সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক নীহার রঞ্জন নাথ, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহবায়ক সৈয়দ আবু জাফর সালাউদ্দিন ও সদস্য সচিব রুবেল আহমেদ, শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও আমার সিলেট (amarsylhet24.com)-এর সম্পাদক মো. আনিছুল ইসলাম আশরাফী, সিনিয়র সাংবাদিক কাওছার ইকবাল, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী।
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান; সিনিয়র সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদ, শফিকুল ইসলাম রুম্মন, রাজেশ ভৌমিক, মিজানুর রহমান আলম, আবুজার রহমান বাবলা, সৈয়দ ছায়েদ আহমেদ, কাজী গোলাম কিবরিয়া জুয়েল, শামসুল ইসলাম শামীম, দৈনিক মানবজমিন-এর প্রতিনিধি জামাল, দৈনিক নিরপেক্ষ-এর প্রতিনিধি মো. কাওছার আহমেদ, শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেসক্লাবের সদস্য আবদাল মিয়াসহ অন্যান্যরা।
লিখিত বক্তব্যে সংগীতশিল্পী মো. তারেক ইকবাল চৌধুরী বলেন, সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ ও সুধীজন। আপনাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আজ আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনদুর্ভোগের বিষয় আপনাদের সামনে তুলে ধরতে উপস্থিত হয়েছি। বিষয়টি হলো হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাস সার্ভিসের শ্রীমঙ্গল শহরে যাত্রাবিরতি বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে।
হবিগঞ্জ-সিলেট সড়ক পথে শ্রীমঙ্গল একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। প্রতিদিন শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জ-সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন শিক্ষার্থী, রোগী, চাকুরীজীবী, বাবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ, পর্যটকসহ সর্বস্তরের মানুষ এই সড়কপথের ওপর নির্ভরশীল।
দুঃখজনক বিষয় হলো হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাস শ্রীমঙ্গল শহরে যাত্রাবিরতি দিচ্ছে না। অথচ পূর্বে এই বাস সার্ভিস শ্রীমঙ্গল শহরে নিয়মিত যাত্রাবিরতি দিত এবং সাধারণ যাত্রীরা অত্যন্ত উপকৃত হতো। আমাদের প্রশ্ন হলো- দুটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের বিরোধের দায় কেন সাধারণ যাত্রীদের বহন করতে হবে?
একটি পরিবহন ব্যবসায়িক বিরোধের কারনে শ্রীমঙ্গল সহ এতদঞ্চলের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ কেন তাদের স্বাভাবিক যাতায়তের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।
বিশেষ করে বর্তমানে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জ পর্যন্ত কার্যকর কোন বিরতিহীন বাস সার্ভিস না থাকায় যাত্রীদের একাধিকবার বাস পরিবর্তন করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন পর্যটন কেন্দ্র। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এখানে আসেন। সড়ক যোগাযোগের এমন একটি গুরুত্বপূর্ন রুটে যাত্রীবান্ধব দুটি পরিবহন সার্ভিসের মধ্যে বিরোধের কারণে সাধারণ জনগণ যেন ভুক্তভোগী না হন।
আমাদের দাবি অত্যন্ত ন্যায্য ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট:
প্রথমত, হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাস সার্ভিস পূর্বের ন্যায় যাত্রাবিরতি দিয়ে যাত্রী নেওয়া এবং আসার পথে নামিয়ে দেওয়া অবিলম্বে পূনর্বহাল করতে হবে।
দ্বিতীয়ত: কোন পরিবহন ব্যবসায়িক বিরোধের কারনে কোন এলাকার সাধারণ যাত্রীদের পরিবহন সুবিধা বন্ধ করা যাবে না।
তৃতীয়ত: শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জগামী যাত্রীদের জন্য নিয়মিত নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব বিরতিহীন বাস সার্ভিস নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিসি) সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। জনস্বার্থকে সর্ব্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করুন।
আমরা আশাকরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন এবং শ্রীমঙ্গল শহরে হবিগঞ্জ- সিলেট বিরতিহীন বাসের পূর্বের যাত্রাবিরতি অবিলম্বে পূনর্বহাল করবেন।
পরিশেষে, গণমাধ্যমের সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দের প্রতি অনুরোধ আপনারা সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করবেন।
আমাদের দাবি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয় আমাদের দাবি সাধারণ যাত্রীদের অধিকার ও জনস্বার্থের পক্ষে। আসুন, পরিবহন মালিকদের বিরোধের সমাধান হউক, কিন্তু সাধারণ যাত্রী যেন ভোগান্তির শিকার না হয়।
শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাসের যাত্রাবিরতি পুনর্বহাল চাই। সবাইকে ধন্যবাদ।
এর আগেও সাধারণ জনগণের পক্ষে সম্প্রতি মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিটি প্রদান করেছেন তিনি। এর পক্ষে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, মিরপুর, শায়েস্তাগঞ্জ ও হবিগঞ্জ এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ ব্যবসা, চাকরি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পারিবারিকসহ নানা প্রয়োজনে নিয়মিত একে অপরের এলাকায় যাতায়াত করেন। এসব মানুষের জন্য হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাস সার্ভিস দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
কিন্তু হবিগঞ্জ বিরতিহীন ও এসএমএস সার্ভিসের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে শ্রীমঙ্গলের যাত্রীদের এ সার্ভিসে ওঠানামার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়। এতে করে যেসব যাত্রীকে মিরপুর, শায়েস্তাগঞ্জ বা হবিগঞ্জে যেতে হয়, তাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাস শ্রীমঙ্গলের ওপর দিয়ে চলাচল করলেও শ্রীমঙ্গল থেকে যাত্রী ওঠানো কিংবা ফেরার পথে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার সুযোগ না থাকায় সাধারণ মানুষ বিশেষ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে যাতায়াতকারীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টিকে অমানবিক ও যাত্রীস্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে দ্রুত এর সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হবিগঞ্জ বিরতিহীন ও এসএমএস সার্ভিসের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে তার প্রভাব যেন সাধারণ যাত্রীদের ওপর না পড়ে। একটি রুটে পরিবহন সার্ভিস চলাচল করার পরও মাঝপথের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ শ্রীমঙ্গল থেকে যাত্রী ওঠানামার সুযোগ না থাকায় জনসাধারণের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টির একটি গ্রহণযোগ্য ও স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে জেলা প্রশাসনকে জেলার অভিভাবক হিসেবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি হবিগঞ্জ বিরতিহীন ও এসএমএস সার্ভিসের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ও স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারী মো. তারেক ইকবাল চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার ও ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিরোধের কারণে সাধারণ যাত্রীরা কেন দুর্ভোগ পোহাবেন—এ প্রশ্নও তিনি তুলে ধরেন।
এলাকাবাসী আশা করছেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাটির দ্রুত সমাধান হবে এবং শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ ও মিরপুরগামী যাত্রীদের বিরতিহীন বাসে ওঠানামার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রীমঙ্গল বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও বাণিজ্যিক জনপদ। ফলে এখানকার মানুষের আন্তঃজেলা যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করা শুধু স্থানীয় জনগণের স্বার্থেই নয়, সামগ্রিক আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”  

লালমনিরহাটে আধুনিক পদ্ধতির সবজি চাষে ঝুকছেন কৃষক

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় কৃষিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে চাষ হচ্ছে নানা রকম আগাম ও মৌসুমি জাতের সবজি।   সনাতন পদ্ধতির পাশা পাশি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকেরা,জমিতে মালচিং পেপার, জৈব সার,মাটির গুনাগুন পরিক্ষা করে পরিমান মতো রাসায়নিক সার ব্যবহার এমনকি লতাজাতিয় সবজি চাষের জন্য মাচা তৈরিতে নেট ও কট সুতার ব্যবহারও করা হচ্ছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকেরা, মুলত অতিবৃষ্টি ও রোদের কারনে যখন আশানুরূপ সবজি উৎপাদনে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে ঠিক তখনি কৃষকরা এ পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। এছাড়াও মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল ফলালে জমিতে সার প্রয়োগ ও কীটনাশক স্প্রে সহজ ভাবে করা যায়,সেই দিক থেকেও এ পদ্ধতি ব্যাপক সারা ফেলেছে,জমিতে এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করলে সেচ দিতে সুবিধা হয় অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করতে হয় না এবং ফলনও বেশি হয় বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।   সাধারন পদ্ধতির চেয়ে মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করা অনেক সহজ এ পদ্ধতিতে লেবার ব্যায় সহ অন্যন্য ব্যায় অনেক কম হয়। অতিমাত্রার রোদ বৃষ্টির কারনে সহজে ফসল নষ্ট হয় না এমনকি জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।   লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতিউল আলম বলেন,কৃষিতে মালচিং ব্যবহার একটি ভাল দিক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে ফসলের রোগবালাই কম হয় জমিতে দেওয়া সার নষ্ট হয় না এবং ভাল ফলন আশা করা যায়।