টাংগাইলের নাগরপুরে নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউপিসি থেকে রাথুরা ভায়া নাটাং পর্যন্ত রাস্তাটি নিম্নমানের ইট ও রাস্তার প্রস্থ্য পরিমাপের চেয়ে কম করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশের নিম্নমানের ইট দিয়ে এজিং করা ও  রাস্তাটির প্রস্থ্য ১০ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয়রা পরিমাপ করে জানতে পারেন ৯ থেকে সাড়ে ৯ ফুট করে করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর  মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫/২৬ অর্থ বছরের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (এলজিইডি) দরপত্র প্রকাশ করেন। নিয়ম অনুযায়ী থ্রী ব্রাদার্স এন্টার প্রাইজ অংশ গ্রহণ করে ৩ হাজার ১ শত ১৬ কিলোমিটার রাস্তা ১ কোটি ৭৯ লক্ষ ৭ হাজার ৩ শত ৮৪ টাকা বরাদ্দকৃত মোকনা ইউপিসি থেকে রাথুরা ভায়া নাটাং পর্যন্ত রাস্তার কাজের কার্যাদেশ পান। রাস্তা নির্মাণ কাজে অনিয়মের সংবাদ পেয়ে কর্মকর্তরা পরির্দশনে গিয়ে নিম্নমানের ইট ও রাস্তার এজিং এর পাশ দিয়ে মাটি না থাকায় কাজটি বন্ধ করে দেন ।
স্থানীয় মো. আবুল কাশেম ও বাদল বলেন, নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে এবং রাস্তার দুই পাশে (সোল্ডার) মাটি নেই। তাছাড়াও রাস্তা পরিমাপের চেয়ে ৬ থেকে ৭ইঞ্চি পাশে কম করার কারণে আমরা গ্রামবাসী মিলে রাস্তার কাজটি বন্ধ করে দেই। আমরা পরিমাপের চেয়ে কমও চাই না এবং বেশিও করতে বলি না। সিডিউলে যা ধরা আছে সেমোতাবেক রাস্তার কাজ করতে হবে।
ঠিকাদার মো. শাহআলম খান ওরফে বাবুলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সততা স্বীকার করে বলেন, নিম্নমানের কিছু ইট আনা হয়েছে। সেটা পরিবর্তন করে ভাল মানের ইট দিয়ে কাজ করা হবে। এছাড়া রাস্তাটির পরিমাপে কমের বিষয় যেটা বলা হচ্ছে সেটা হয়তো মিস্ত্রিরা করেছে মিস্ত্রিরা যদি ভুল করে পরিমাপে কম করে থাকে তাহলে সেটা তারাই সংশোধন করে দিবে। রাস্তার পরিমাপ কম হলে তো কতর্ৃপক্ষ আমাকে বিল দিবে না। তাই রাস্তা পরিমাপে কম করার কোন সুযোগ নেই।
উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব বলেন, মোকনা ইউপিসি  থেকে রাথুরা ভায়া নাটাং পর্যন্ত রাস্তাটি নিম্নমানের ইট ব্যবহার ও পরিমাপে কম করার অভিযোগের কথা শুনে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”  

লালমনিরহাটে আধুনিক পদ্ধতির সবজি চাষে ঝুকছেন কৃষক

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় কৃষিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে চাষ হচ্ছে নানা রকম আগাম ও মৌসুমি জাতের সবজি।   সনাতন পদ্ধতির পাশা পাশি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকেরা,জমিতে মালচিং পেপার, জৈব সার,মাটির গুনাগুন পরিক্ষা করে পরিমান মতো রাসায়নিক সার ব্যবহার এমনকি লতাজাতিয় সবজি চাষের জন্য মাচা তৈরিতে নেট ও কট সুতার ব্যবহারও করা হচ্ছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকেরা, মুলত অতিবৃষ্টি ও রোদের কারনে যখন আশানুরূপ সবজি উৎপাদনে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে ঠিক তখনি কৃষকরা এ পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। এছাড়াও মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল ফলালে জমিতে সার প্রয়োগ ও কীটনাশক স্প্রে সহজ ভাবে করা যায়,সেই দিক থেকেও এ পদ্ধতি ব্যাপক সারা ফেলেছে,জমিতে এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করলে সেচ দিতে সুবিধা হয় অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করতে হয় না এবং ফলনও বেশি হয় বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।   সাধারন পদ্ধতির চেয়ে মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করা অনেক সহজ এ পদ্ধতিতে লেবার ব্যায় সহ অন্যন্য ব্যায় অনেক কম হয়। অতিমাত্রার রোদ বৃষ্টির কারনে সহজে ফসল নষ্ট হয় না এমনকি জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।   লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতিউল আলম বলেন,কৃষিতে মালচিং ব্যবহার একটি ভাল দিক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে ফসলের রোগবালাই কম হয় জমিতে দেওয়া সার নষ্ট হয় না এবং ভাল ফলন আশা করা যায়।