টাংগাইলের নাগরপুরের ভাদ্রা ইউনিয়নে যুব জামায়াতের বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত

বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যুব বিভাগ, নাগরপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ভাদ্রা ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলার ভাদ্রা ইউনিয়নের ভাসানী স্কুলের হলরুমে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ডা. এম. এ. মান্নানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা যুব বিভাগের অর্থ সম্পাদক মো. মহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. আব্দুস সালাম, উপজেলা ব্যবসায়ী বিভাগের সভাপতি আব্দুর রশিদ মিয়া হারুন, ভাদ্রা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হাফেজ মো. কামরুল ইসলাম এবং উপজেলা যুব বিভাগের অফিস ও মিডিয়া সম্পাদক মো. সবুর মিয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইসলাম প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী রেখে যেতে আমাদের সবাইকে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করতে হবে। পাশাপাশি রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. আব্দুস সালাম বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। প্রত্যেক পরিবার ও প্রতিটি মানুষ যদি নিয়মিত গাছ লাগায়, তাহলে একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ডা. এম. এ. মান্নান বলেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি পরিবেশ রক্ষায় আমাদের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করার দিন। যুব সমাজকে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে উপস্থিত স্কুল কলেজ শিক্ষার্থী,শিক্ষক,শ্রমিক, কৃষক, স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
এ সময় নাগরপুর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অর্থ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম, ভাদ্রা ইউনিয়ন যুব বিভাগের সেক্রেটারি মো. পরশ মিয়া, অর্থ সম্পাদক মো. নবিনুর ইসলাম, যুবনেতা আব্দুল রহমানসহ ভাদ্রা ইউনিয়ন যুব বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন পেশার নাগরিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”  

লালমনিরহাটে আধুনিক পদ্ধতির সবজি চাষে ঝুকছেন কৃষক

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় কৃষিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে চাষ হচ্ছে নানা রকম আগাম ও মৌসুমি জাতের সবজি।   সনাতন পদ্ধতির পাশা পাশি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকেরা,জমিতে মালচিং পেপার, জৈব সার,মাটির গুনাগুন পরিক্ষা করে পরিমান মতো রাসায়নিক সার ব্যবহার এমনকি লতাজাতিয় সবজি চাষের জন্য মাচা তৈরিতে নেট ও কট সুতার ব্যবহারও করা হচ্ছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকেরা, মুলত অতিবৃষ্টি ও রোদের কারনে যখন আশানুরূপ সবজি উৎপাদনে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে ঠিক তখনি কৃষকরা এ পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। এছাড়াও মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল ফলালে জমিতে সার প্রয়োগ ও কীটনাশক স্প্রে সহজ ভাবে করা যায়,সেই দিক থেকেও এ পদ্ধতি ব্যাপক সারা ফেলেছে,জমিতে এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করলে সেচ দিতে সুবিধা হয় অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করতে হয় না এবং ফলনও বেশি হয় বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।   সাধারন পদ্ধতির চেয়ে মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করা অনেক সহজ এ পদ্ধতিতে লেবার ব্যায় সহ অন্যন্য ব্যায় অনেক কম হয়। অতিমাত্রার রোদ বৃষ্টির কারনে সহজে ফসল নষ্ট হয় না এমনকি জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।   লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতিউল আলম বলেন,কৃষিতে মালচিং ব্যবহার একটি ভাল দিক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে ফসলের রোগবালাই কম হয় জমিতে দেওয়া সার নষ্ট হয় না এবং ভাল ফলন আশা করা যায়।