শুক্রবার,১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মতলব সরকারি হাসপাতালে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, এক দিনে ভর্তি ৬ জন

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একদিনেই ৬ জন শিশু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাম আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু হলেও সম্প্রতি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নঈমুল ইসলাম রাজিব জানান, সাধারণত শিশু রোগীরাই হাম আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তিনি বলেন, “হাম শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জেলা সমন্বয়কারী নমুনা সংগ্রহ করেন। তবে পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লেগে যায়, ফলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়।”
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিব কিশোর বণিক বলেন, “হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুর শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে খুব দ্রুত অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে অতিরিক্ত স্বজন অবস্থান না করার নির্দেশনা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয় না। ফলে রোগীর পরিবারের সদস্যরাও সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন।”
স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) অংশগ্রহণ না করা এবং নির্ধারিত ডোজ সম্পূর্ণ না নেওয়ার কারণে অনেক শিশু হামের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ, অপুষ্টি এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবও রোগটির বিস্তারে ভূমিকা রাখছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম রায়হান বলেন, “হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য আমাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৫টি শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ধারণক্ষমতার বাইরে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে বেডের ব্যবস্থা করে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।”
এদিকে হামের বিস্তার রোধে অভিভাবকদের শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং