শুক্রবার,১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কোরবানির আমেজে মুখর মৌলভীবাজার স্টেশন পশুর হাট, কম হাসিলে স্বস্তি ক্রেতা-বিক্রেতাদের

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মৌলভীবাজার স্টেশন পশুর হাটে বইতে শুরু করেছে কোরবানির আমেজ। শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া হাট জুমার নামাজের পর পরিণত হয় জনসমুদ্রে। ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহল, পশুর ডাক আর দরদামের ব্যস্ততায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো বাজার এলাকা।
হাটজুড়ে দেখা যায় দেশীয় জাতের গরু, মহিষ ও ছাগলের বিশাল সমাহার। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাড়াও আশপাশের এলাকা থেকে খামারিরা তাদের লালন-পালন করা পশু নিয়ে আসেন এই হাটে। সারি সারি মোটাতাজাকৃত গরু ও মহিষের উপস্থিতি ক্রেতাদের নজর কাড়ে। বিশেষ করে প্রায় ১২ মণ ওজনের লাল রঙের একটি বিশাল ষাঁড়কে ঘিরে সৃষ্টি হয় ব্যাপক আগ্রহ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরাও গরুটিকে একনজর দেখতে ভিড় করেন।
ষাঁড়টির মালিক জানান, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে উন্নত খাদ্য ও বিশেষ পরিচর্যার মাধ্যমে গরুটিকে প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, কোরবানির বাজারে গরুটির ন্যায্য মূল্য পাবেন।
হাটে ঘুরে দেখা যায়, ছোট, মাঝারি ও বড়—সব ধরনের পশুর সমাহার রয়েছে। ফলে ক্রেতারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পছন্দের পশু বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অনেক ক্রেতা জানান, অন্যান্য বাজারের তুলনায় এখানে পশুর দাম তুলনামূলক সহনীয় এবং হাসিলও কম হওয়ায় কেনাকাটায় স্বস্তি অনুভব করছেন।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহনকারী মৌলভীবাজার স্টেশন পশুর হাট প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও সোমবার নিয়মিত বসে। তবে কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় বর্তমানে হাটে পশুর সংখ্যা ও ক্রেতার উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়েছে।
হাটের ইজারাদার সায়েম সিকদার বলেন, “ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে বাজারে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কম হাসিল, বিশাল চাউনি, পশু রাখার নিরাপদ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অর্ধশতাধিক কর্মী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।”
তিনি আরও জানান, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন। পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে আলাদা ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এ বিশাল পশুর হাটে দিনভর হাজারো মানুষের পদচারণায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। বাজারে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কৃষক, খামারি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি এনজিও কর্মীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া আশপাশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকেও অনেক ক্রেতাকে গরু ও মহিষ কিনতে হাটে আসতে দেখা গেছে।
কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে মৌলভীবাজার স্টেশন পশুর হাট। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আগামী হাটগুলোতে আরও বেশি পশু ও ক্রেতার সমাগম ঘটবে এবং খামারিরা তাদের লালন-পালন করা পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং