শুক্রবার,১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঈদুল আজহা ঘিরে লোহার আগুনে জেগে উঠেছে আটঘরিয়ার কামারপল্লি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামীণ জনপদে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্প। উপজেলার দেবোত্তর বাজার, আটঘরিয়া বাজার, খিদিরপুর বাজার, গোড়লী বাজার, একদন্ত বাজার, লক্ষীপুর বাজার ও চৌবাড়ীয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার কামারপল্লি ও বাজারে এখন ব্যস্ততার শেষ নেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের ভাটিতে লোহা গরম করে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি করছেন কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম।
ঈদকে সামনে রেখে পশু কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, চাপাতি, বটি, কুড়ালসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ও সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো সরঞ্জামে ধার দেওয়ার কাজও চলছে পুরোদমে। প্রতিটি বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ নতুন দা-ছুরি কিনছেন, আবার কেউ পুরোনো সরঞ্জাম মেরামত ও ধার দিতে আসছেন। কামারদের হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
শুধু কোরবানির সরঞ্জামই নয়, চলতি মৌসুমে ধান কাটার কাঁচি, পাটের নিড়ানি, কোদাল, কাস্তে, লাঙলের বিভিন্ন অংশসহ কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরিতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। একদিকে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির সরঞ্জামের চাপ, অন্যদিকে ধান-পাট মৌসুমে কৃষি সরঞ্জামের চাহিদা—সব মিলিয়ে তাদের ব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
কেউ কেউ আবার নিজেদের তৈরি দা, ছুরি, কাস্তে, নিড়ানি ও কৃষি যন্ত্রপাতি স্থানীয় হাটে ঘুরে বিক্রি করছেন। এতে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে যাওয়ায় বাজারে কামারশিল্পের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
কামারদের বক্তব্য :
দেবোত্তর বাজার এলাকার কামার দুলাল বলেন, “ঈদুল আজহা সামনে থাকায় কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেও অর্ডার শেষ করতে পারছি না।”
একই এলাকার কামার বিল্লাল জানান, “কোরবানির সরঞ্জামের পাশাপাশি কৃষি যন্ত্রপাতির কাজও বেশি আসছে। লোহা ও কয়লার দাম বাড়লেও আমরা চেষ্টা করছি মান ঠিক রেখে কাজ করতে।”
কামার লাল চাঁদ বলেন, “এই সময়টাই আমাদের আসল মৌসুম। ঈদ ও কৃষি কাজ মিলিয়ে কাজের চাপ অনেক বেশি, তাই বিশ্রামের সুযোগ কম।”
খিদিরপুর বাজার-এর কামার শ্রী অর্পণ কর্মকার বলেন, “ঈদ সামনে থাকায় দা, ছুরি, চাপাতি তৈরি ও ধার দেওয়ার কাজ অনেক বেড়েছে। ক্রেতাদের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।”
চৌবাড়ীয়া বাজার-এর কামার বৈদ্যনাথ কর্মকার জানান, “ধান কাটা ও পাটের মৌসুম হওয়ায় কৃষি সরঞ্জামের চাহিদাও বেড়েছে। একসাথে দুই ধরনের কাজ সামলাতে হচ্ছে।”
একই বাজারের কামার আনন্দ কর্মকার বলেন, “সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেও সব অর্ডার শেষ করা যাচ্ছে না। ঈদের সময়টা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
কামার পলাশ কর্মকার বলেন, “আগে শুধু ঈদের সময় কাজ বেশি হতো, এখন কৃষি মৌসুম থাকায় সারা বছরই চাপ থাকে, তবে ঈদে সেটা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্প তার প্রয়োজনীয়তা হারায়নি। বিশেষ করে ঈদুল আজহা ও কৃষি মৌসুমকে কেন্দ্র করে এই শিল্প এখনও গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং