অফিসিয়াল কাজ একটু পরে হলেও চলবে, আগে সেবা প্রত্যাশী মানুষ থানায় এলে তার সমস্যার সমাধানে কাজ করতে হবে, এভাবেই জনবান্ধব পুলিশিংয়ের বার্তা দিলেন সাতক্ষীরার নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম| একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের অপরাধী হিসেবেই দেখা হবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা দেন| পাশাপাশি জেলাজুড়ে মাদক, চোরাচালান ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও তুলে ধরেন তিনি|
শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে জেলা পুলিশের আয়োজনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পরিচিতি সভায় এসব কথা বলেন নবাগত পুলিশ সুপার|
সভায় জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, জনসেবামুখী পুলিশিং এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে সময় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়|
পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, “পেশাদারিত্ব বজায় রেখে পুলিশি সেবা প্রদানে জেলার আট থানার ওসিদের ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে| জনগণ থানায় এসে যেন হয়রানির শিকার না হন, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে হবে|”
তিনি আরও বলেন, “মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাসবাদ এবং যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে| রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, অপরাধীদের অপরাধী হিসেবেই দেখা হবে|”
জেলাকে শান্ত, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ| আপনাদের তথ্য ও সহযোগিতা পুলিশের কাজকে আরও কার্যকর করবে|”
সভায় সাংবাদিকরা সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী সাতটি উপজেলার মধ্যে পাঁচটি উপজেলার ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় চোরাচালান ও মাদকের বিস্তার রোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান| পাশাপাশি অনলাইন জুয়া বন্ধ, শহরের যানজট নিরসন, থানা সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তারা|
এ সময় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জিম্মি করে আর্থিক সুবিধা আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়| জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, “যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে| রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে জেলা পুলিশ অবিচল থাকবে|”
পরিচিতি সভায় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা নবাগত পুলিশ সুপারকে স্বাগতম জানিয়ে বক্তব্য রাখেন| তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের নিজস্ব প্রতিবেদক সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার মমতাজ আহমেদ বাপ্পি, আরটিভির জেলা প্রতিনিধি রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, দক্ষিণের মশালের সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেকী ইলাহী এবং এটিএন বাংলার এম কামরুজ্জামান|
এছাড়া বক্তব্য দেন যমুনা টিভির আকরামুল ইসলাম, ডিবিসি নিউজের এম বেলাল হোসেন, সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি আব্দুল সামাদ, এশিয়ান টিভির মশিউর রহমান ফিরোজ, নাগরিক টিভির কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি, স্টার নিউজ গাজী ফরহাদ, গ্রীন টিভির মীর খায়রুল আলম, ঢাকা টাইমস ও দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের মো. হোসেন আলী এবং ঢাকা পোস্টের ইব্রাহিম খলিলসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা|
পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এম রাজু আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সরকার এবং ডিআই-১ আব্দুল আলিম|
সভা শেষে নবাগত পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের উত্থাপিত প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় কাঙ্ক্ষিত পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন|


