বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জয়পুরহাটে কচুর লতির চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকেরা

জয়পুরহাটে এক সময় গর্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল কচুর লতি, যা স্থানীয় ভাবে ‘লতিরাজ’ নামে খ্যাত। তবে সময়ের ব্যবধানে ঐতিহ্যবাহী এই কৃষিপণ্য এখন হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। চাষাবাদে অবহেলা, সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতায় দিন দিন কমে যাচ্ছে কচুর লতির উৎপাদন।
সকাল হলেই পাঁচবিবি উপজেলার বটতলীতে জমে উঠে লতির হাট।এই লতির হাটের জন্য এই স্থানের নাম হয়ে উঠেছে লতিহাটি। তবে বাজারের সঠিক ব্যবস্থা ও পণ্য সংরক্ষণের সঠিক জায়গা না থাকায় এখন এই বাজার হারাচ্ছে তার গৌরব।এর সাথে হারিয়ে যাচ্ছে জয়পুরহাটের গর্ব কচুর লতিরাজ।
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, আগে জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাবে কচুর লতি চাষ হতো। কিন্তু বর্তমানে সারের দাম বৃদ্ধি এবং কৃষি উপকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরামর্শ ও প্রণোদনা না পাওয়ায় অনেকেই এই চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, প্রতিদিন বাজারে কচুর লতির সরবরাহ কমে যাচ্ছে। ফলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাজারে স্থিতিশীলতা নেই। সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং পণ্য সংরক্ষণেও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এবিষয়ে কৃষিবীদ ও সহকারী অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন বলেন,  যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে কচুর লতি আবারও জয়পুরহাটের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য হিসেবে ফিরে আসতে পারে। এজন্য প্রয়োজন কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান, এবং একটি সুসংগঠিত বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনই উদ্যোগ না নিলে জয়পুরহাটের এই ঐতিহ্যবাহী ‘লতিরাজ’ একসময় শুধুই স্মৃতিতে পরিণত হবে।
 এবিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন,পাঁচবিবি উপজেলায় তিন মৌসুমে কচুর লতি চাষ হয়।আমাদের এ বছরের লক্ষ্য মাত্রা ৯৩০ সেক্টর জমি।কচুর লতি চাষে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে  সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আর বাজার সংক্রান্ত যে সমস্যাটি রয়েছে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং