মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় এক অবর্ণনীয় ঘটনায় সমগ্র এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। শিশু ধর্ষণের অভিযোগে নিজের সৎ মেয়ের সৎ বাবা মতি বেপারীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান মতি বেপারী। মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পুলিশকে এড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ডিবি পুলিশের অভিযান থামেনি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা টানা অভিযান চালিয়ে টাংগাইলের এক গরুর হাট থেকে তাকে আটক করা হয়।
হাটের হাজারো মানুষের ভিড়, অভিযুক্তের সাম্প্রতিক ছবির অভাব এবং ছদ্মবেশে থাকার সম্ভাবনা—সবকিছু মিলিয়ে অভিযানটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। তবে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও দলের অসাধারণ ধৈর্যের সমন্বয়ে সফল হয় ডিবি টিম। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর সন্দেহভাজনদের মধ্য থেকে মতি বেপারীকে শনাক্ত করে দ্রুত ও কৌশলগতভাবে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন মানবেন্দ্র স্যার। তাঁর পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায় দলের সদস্যরা পেশাদারিত্বের অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা
ঘটনাটি প্রকাশের পর সিঙ্গাইরের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা এমন জঘন্য অপরাধের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। অনেকেই বলছেন, “পারিবারিক নিরাপত্তার দেওয়ালই যদি ভেঙে পড়ে, তাহলে শিশুরা কোথায় নিরাপদ?”
সচেতন মহল মনে করছে, আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি সমাজে শিশু সুরক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি। ভুক্তভোগী শিশুটির চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে এ ধরনের ঘটনার ভবিষ্যৎ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও সামনে এনেছে আমাদের সমাজের অন্ধকার দিক এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ। এখন সময় এসেছে—শুধু কথায় নয়, কাজে শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার।


