বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে চিরচেনা রুপে ফিরছে গারো পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ গারো পাহাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য আবারও ধীরে ধীরে ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা।

একসময় এই পাহাড়ি অঞ্চল ছিল বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। ময়মনসিংহ বন বিভাগের আওতাধীন গারো পাহাড়ে তিন যুগ আগেও বাঘ, ভাল্লুক, হরিণ, বনমোরগ, শিয়াল, বনকুকুর, বানর, সাপসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর কোলাহলে মুখর ছিল পুরো এলাকা। মানুষের কোলাহল ও বনাঞ্চলে অবাধ প্রবেশের কারণে ধীরে ধীরে এসব প্রাণী বিলুপ্তির পথে চলে যায়। বর্তমানে শুধু সীমান্ত পেরিয়ে আসা বন্যহাতির পাল ছাড়া অন্য বন্যপ্রাণীর দেখা পাওয়া প্রায় দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের ভাষায়, একসময় “বন্যেরা বনে সুন্দর” প্রবাদটির বাস্তব রূপ ছিল এই পাহাড়। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া, বসতি স্থাপন বৃদ্ধি এবং মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশের কারণে জীববৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ খান জানান, অতীতে গারো পাহাড়ে বন্যপ্রাণীর বৈচিত্র্য ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তবে দীর্ঘ সময় ধরে মানবসৃষ্ট চাপ, বন উজাড় এবং জনসমাগম বেড়ে যাওয়ায় এসব প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হয়েছে।

তিনি বলেন, আগে এই পাহাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী দেখা যেত। এখন বেশিরভাগই হারিয়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় বন্যহাতির চলাচল এবং বনের পরিবেশ কিছুটা শান্ত হওয়ায় নতুন করে জীববৈচিত্র্য ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, তিন যুগ আগেও গারো পাহাড়ে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। এখন মানুষের বসতি ও কর্মকাণ্ড বাড়ায় প্রাণীর সংখ্যা কমে গেছে। তবে বন বিভাগ বর্তমানে সচেতনতামূলক সেমিনার, স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বন্যহাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীকে রক্ষা করতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে এবং প্রাণী হত্যা বা ক্ষতি না করার বিষয়ে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বন্যপ্রাণী অবমুক্ত করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি বনাঞ্চলে মানুষের কোলাহল কিছুটা কমে আসায় এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটক চলাচল হ্রাস পাওয়ায় পাহাড়ি এলাকায় কিছু বন্যপ্রাণীর পুনরাগমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে আসা বন্যহাতির চলাচল এখনো নিয়মিত দেখা যায়।

পরিবেশবিদদের মতে, পরিকল্পিত বন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখল বন্ধ, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে গারো পাহাড়ের হারানো জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার সম্ভব।

স্থানীয় বন বিভাগও মনে করছে, ধারাবাহিক নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে এই পাহাড়ি অঞ্চলে আবারও প্রাণ ফিরে আসবে এবং গারো পাহাড় তার হারানো প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ফিরে পেতে পারে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

ধর্মপাশায় ৭ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও ১ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দেখেন ১১০ প্রাথমিক বিদ্যালয়

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা একটি হাওর বেষ্টিত উপজেলা।যা আয়তনের দিকে অনেক