মাগুরায় চলমান শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় প্রবেশ টিকিটের আড়ালে চলছে রমরমা লটারি বা রেফেল ড্র-এর ব্যবসা। ‘প্রবেশ মূল্য মাত্র ২০ টাকা’ লেখা থাকলেও মূলত চটকদার পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।প্রচারণার চিত্র ও জনদুর্ভোগ
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাগুরা জেলার সদরসহ চারটি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে প্রায় দুই শতাধিক ইজিবাইক ও ভ্যানযোগে মাইকিং করে এই লটারির টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। মাইকে মোটরসাইকেল, সোনা ও দামী গাড়ির মতো অবিশ্বাস্য সব পুরস্কারের ঘোষণা শুনে দিনমজুর থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রামবাসী প্রলুব্ধ হচ্ছে। এতে করে শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই এখন লটারির মাতম চলছে, যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রেফেল ড্র-এর নেশায় পড়ে অনেক নিম্নবিত্ত মানুষ তাদের দৈনন্দিন খরচের টাকা লটারির পেছনে ব্যয় করছেন। বিশেষ করে গ্রামের সহজ-সরল মানুষগুলো প্রতিদিন শত শত টাকার টিকিট কাটছে পুরস্কারের আশায়, যার ফলাফল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শূন্য। সচেতন মহলের মতে, মেলার সুস্থ বিনোদনের চেয়ে লটারি বাণিজ্যই এখন মূল বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যা প্রকারন্তরে এক ধরণের সামাজিক অপরাধ।ইসলামী দৃষ্টিতে রেফেল ড্র বা লটারি এই লটারি বাণিজ্য নিয়ে মাগুরার ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী, লটারির মাধ্যমে ভাগ্য পরীক্ষা করা বা এর পেছনে টাকা ব্যয় করা স্পষ্টত ‘জুয়া’র অন্তর্ভুক্ত।পবিত্র কুরআনের সূরা মায়িদার ৯০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মদ ও জুয়াকে শয়তানের কাজ এবং ঘৃণ্য অপবিত্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন। মেলায় যে পদ্ধতিতে ২০ টাকার টিকিট কেটে কোটি টাকার পুরস্কারের লোভ দেখানো হচ্ছে, সেখানে মুষ্টিমেয় কয়েকজন লাভবান হলেও হাজার হাজার মানুষ তাদের কষ্টের টাকা হারাচ্ছে। আলেম সমাজের মতে, এই প্রক্রিয়াটি সরাসরি জুয়া হওয়ায় ইসলামে এটি সম্পূর্ণ হারাম। তারা সাধারণ মানুষকে এই ধরণের অনৈতিক ও পাপের কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
মাগুরার সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের নাকের ডগায় এভাবে শত শত গাড়ি নামিয়ে লটারি বিক্রি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। লটারির এই চক্করে পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো আরও দরিদ্র হয়ে পড়ছে। দ্রুত এই ‘লটারি বাণিজ্য’ ও উচ্চশব্দে মাইকিং বন্ধে তারা স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


