কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা-এ টিকটকের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের জেরে দুই সন্তান রেখে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়ন-এর কালাকচুয়া ডাকলাপাড়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সৌদি প্রবাসী ওমর ফারুকের সঙ্গে ২০১৯ সালে পারিবারিকভাবে এক লাখ টাকা দেনমোহরে জান্নাতুল ফেরদৌসের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে বর্তমানে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে—একজনের বয়স পাঁচ বছর এবং অপরজনের বয়স দুই বছর। জীবিকার তাগিদে ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন এবং নিয়মিতভাবে পরিবারের খরচ বহন করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টিকটকে পরিচয় হয় চান্দিনা উপজেলা-এর বেলাশর গ্রামের আনিসুর রহমানের সঙ্গে। প্রথমে সাধারণ যোগাযোগ হলেও একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে পরকীয়ায় রূপ নেয়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি আঁচ করতে পারলেও নিশ্চিত হতে পারেননি বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৯ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে জান্নাতুল ফেরদৌস তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার (প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্য), নগদ ২ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী নিয়ে আনিসুর রহমানের সঙ্গে অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে যান। পালানোর সময় বড় ছেলে (৫) কে ঘুমন্ত অবস্থায় বাড়িতে রেখে ছোট ছেলে (২) কে সঙ্গে নিয়ে যান। পরে আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে ছোট সন্তানকে তার বাবার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে বড় সন্তান দাদীর কাছে এবং ছোট সন্তান নানার বাড়িতে অবস্থান করছে।
এ ঘটনায় প্রবাসীর মা রমুজা বেগম বুড়িচং থানা-য় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুঠোফোনে সৌদি প্রবাসী ওমর ফারুক বলেন, “আমি প্রবাসে কষ্ট করে উপার্জন করে সংসার চালিয়েছি। আজ আমি নিঃস্ব। আমার দুই সন্তান মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত। একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযুক্ত আনিসুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার বাড়ি চান্দিনা উপজেলার বেলাশর সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকায় এবং তার পিতার নাম মো. ইউনুস।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ও পারিবারিক ভাঙনের বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


