আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখার বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধনী) অধ্যাদেশ বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। পরে বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিলের মূল বৈশিষ্ট্য ও নতুন বিধান
পাস হওয়া এই সংশোধনী বিলে সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। নতুন আইনের ফলে সরকার এখন থেকে কেবল ব্যক্তি নয়, বরং কোনো সত্তা বা রাজনৈতিক সংগঠনকেও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে নিষিদ্ধ করার পূর্ণ এখতিয়ার রাখবে।
বিলের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
সংগঠন নিষিদ্ধকরণ: কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকে, তবে সরকার সেটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে।
অনলাইন কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা: নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠন বা ব্যক্তির কোনো প্রকার বক্তব্য, বিবৃতি বা প্রচারণা অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (Facebook, X, YouTube ইত্যাদি) প্রচার করা যাবে না।
কঠোর শাস্তির বিধান: নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হওয়া, তাদের আশ্রয় দেওয়া, অর্থায়ন করা বা কোনোভাবে সহায়তা করার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।
আদালতের বিশেষ ক্ষমতা: সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিষয়টিও এই সংশোধনীতে গুরুত্ব পেয়েছে।
সংসদ অধিবেশনে যা বলা হলো
বিলটি উত্থাপনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ বলেন, “দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং রাজনীতির নামে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে এই আইন সময়ের দাবি। কোনো বিশেষ দলকে লক্ষ্য করে নয়, বরং যারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও মানুষের জানমালের ওপর আঘাত হানবে, তাদের বিরুদ্ধেই এই আইন কার্যকর হবে।”
বক্তব্য শেষে স্পিকার বিলটি পাসের জন্য ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। সংসদীয় বিশ্লেষকদের মতে, এই বিল পাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মতো বিতর্কিত রাজনৈতিক দলের রাজনীতিতে ফেরার পথ আইনগতভাবেই রুদ্ধ হলো।আরও পড়ুন:
[সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রভাব ও জননিরাপত্তা: একটি বিশ্লেষণ]
[সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার]
আপনার মতামত জানান নিচে:


