মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গোয়ালদহ বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাট এলাকায় ‘গ্রামীণ ঈদ আনন্দ মেলা-২০২৬’ এর নামে চলছে রমরমা লটারি বাণিজ্য। বিনোদনের আড়ালে এই জুয়ার আসর বসিয়ে সাধারণ মানুষকে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতিদিন হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এতে সর্বস্বান্ত হচ্ছে নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেলার প্রবেশ টিকেটের নামে মাত্র ২০ টাকায় লটারির কুপন বিক্রি করা হচ্ছে। টিকেটে মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ, ফ্রিজসহ লোভনীয় সব পুরস্কারের ছবি থাকলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের ভাগ্যে জুটছে কেবল শূন্যতা। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাইকিং করে এবং অটোরিকশায় করে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে এই লটারির টিকেট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, এই লটারি মূলত একটি পরিকল্পিত জুয়া। প্রতিদিন কয়েক হাজার টিকেট বিক্রি হলেও হাতেগোনা কয়েকজন নামমাত্র পুরস্কার পায়। পুরস্কার পাওয়ার আশায় রিকশাচালক, দিনমজুর এবং শিক্ষার্থীরা তাদের দিনের উপার্জনের একটি বড় অংশ এই টিকেটের পেছনে খরচ করছে। ফলে অনেক পরিবারে অশান্তি নেমে এসেছে এবং দৈনন্দিন বাজার করার টাকাও লটারির পেছনে চলে যাচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “ঈদের আনন্দ দিতে মেলা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখানে চলছে পকেট কাটার উৎসব। ২০ টাকার লোভে পড়ে মানুষ শত শত টাকা শেষ করছে। প্রশাসন যদি দ্রুত এই তথাকথিত লটারি বন্ধ না করে, তবে শ্রীপুরের সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”লটারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করার এই প্রক্রিয়াকে ইসলামি শরীয়াহ ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ‘জুয়া’ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। মাগুরা সদর ও শ্রীপুর উপজেলার সাধারণ মানুষ এই অবৈধ লটারি বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধ করতে এবং আয়োজক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।


