শুক্রবার,১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঝিনাইদহে পাম্প মালিক, সাংবাদিক ও সূশীল সমাজের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা

ঝিনাইদহ জেলায় চলমান জ্বালানি তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। জেলার মোট ৩৬টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬টি, তার মধ্যে তাজ ফিলিং ষ্টেশনে একজন সমন্ময়ন হত্যার ঘটনায় ২টি পাম্প বন্ধ রয়েছে। শৈলকুপায় ৫টি, হরিণাকুন্ডুতে ১টি, কালীগঞ্জে ৮টি, কোটচাঁদপুরে ৩টি এবং মহেশপুরে ৩টি স্টেশন রয়েছে। সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই এসব স্টেশনে তেল নিতে দিন দিন  ভিড় বাড়েই চলেছে, বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ভোররাত থেকে সন্ধা পর্যন্ত এক থেকে দেড় কিলোমিটার লাইনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, অনেক মোটরসাইকেল চালক পরিচয় বদলে একাধিকবার তেল সংগ্রহ করছেন এবং গুজব ছড়িয়ে তেল মজুদ করছেন। এছাড়া শহরের একই পরিবারের ৪/৫ জন ক্যারেট ও বোতল হাতে লাইনে দাড়িয়ে তেল কিনে বেশি দামে গ্রামের দোকানদারদের নিকট বিক্রি করছে। এতে করে প্রকৃত কৃষকরা ডিজেল তেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে জেলার প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর ইরি ধান আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃষক সেজে পেট্রোল পাম্প থেকে ডিজেল সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। জেলা প্রশাসনের পর্যাপ্ত মনিটরিং না থাকায় তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও সংকট পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঝিনাইদহ শহরের আরিফ ফিলিং স্টেশনের মালিক মারুফ আহম্মেদ জানান, প্রকৃতপক্ষে বড় কোনো তেলের সংকট নেই। আগের তুলনায় সরকারের নির্দেশ ক্রমে সরবরাহ বাড়িছে। তবে গুজবের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, একই মোটরসাইকেল দিনে দুই থেকে তিনবার তেল নিচ্ছে, এমনকি প্রয়োজন না থাকলেও কিছু লোকদের হাতে ৫০/১০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে লাইনে দাড়িয়ে তেল নিচ্ছেন। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে ফুয়েল কার্ড বা কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন।
কালীগঞ্জের এসআর আমজাদ আলী ফিলিং স্টেশনের মালিক সাহেদ কবীর জানান, আগে যেখানে দিনে ৬০০ লিটার পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হতো, এখন চাহিদা তিনগুণ বেড়েছে। তার মতে, গুজবই সংকটকে বাড়িয়ে তুলছে। বাস্তবে সরবরাহ কিছুটা কম হলেও চাহিদা বৃদ্ধিই মূল সমস্যা।
ঝিনাইদহ চেম্বারের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বাইকারদের জন্য সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি তেল বিক্রির সময় তেল কম দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে যে কারনে পাম্পের মিটার যাচাই নিশ্চিত করতে হবে।
রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পেট্রোল পাম্প মালিকদের সভায় সাংবাদিকরা গুজব প্রতিরোধ ও বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানান। ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন বলেন, শহরের এক শ্রেনীর মানুষ কৃষক সেজে দিনের বেলায় ডিজেল সংগ্রহ করছেন। সেই তেল গ্রামের দোকাদের নিকট বেশী দামে বিক্রি করছে। এ সমস্যা সমাধানে কৃষি কার্ড চালু এবং দিনের বেলায় প্রকৃত কৃষকদের ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি করেছেন এবং ঝিনাইদহকে বিশেষভাবে নজরদারিতে রেখে অন্যান্য জেলার তুলনায় ২০% তেল বেশী সরবরাহ করছেন। ইতোমধ্যে ১৭টি ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করে ১১টি তেল পাম্পকে জরিমানা করা হয়েছে। পুলিশ ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
এসময় ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড এম এ মজিদ বলেন, সারা বিশ্বে যখন তেল সংকট ও দাম বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে ঠিক সেই মূহুর্তে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহাদয় বাংলাদেশের মানুষের কথা চিন্তা করে তেলের দাম এক টাকাও না বাড়িয়ে প্রতিদিন সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রির নির্দশ দিয়েছেন। যে কারনে প্রতিদিন ১শত ৬০ কোটি টাকা লোকশান গুনতে হচ্ছে সরকারের। লোকশান দিয়ে তিনি কৃষক ও সাধারন জনগনের চাহিদা পূরন করছেন। এখন আপনাদের উচিত শৃংখলা বজায় রেখে প্রতিদিনের চাহিদা অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করবেন তাহলে কোন সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ। পাম্প মালিকদের ইদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সঠিক মাপে এবং কার্ডের মাধ্যমে শৃংখলা বজায় রেখে তেল সরবরাহ করবেন কোন রকম দূর্নীতির আশ্রয় নিবেন না। দূর্নীতির অভিযোগ পেলে পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গুজব নিয়ন্ত্রণ, সঠিক মনিটরিং এবং নীতিমালা প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে জেলায় তেলের কৃত্রিম সংকট দ্রুতই নিরসন সম্ভব।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং