কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্রমশ growing উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ‘মূল হোতা ও বড় মাদক কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে, আর সাধারণ সেবীরাই যেন অভিযানে নষ্ট হচ্ছে।’
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক মাসে থানার আওতায় একাধিক অভিযান চালানো হলেও গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশই শুধু মাদক সেবী। মূল ডিলার বা বড় ব্যবসায়ীরা সক্রিয়ভাবে অভিযান থেকে বাদ পড়ছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ছোটখাটো সেবীদের আটক করে পুলিশ যেন নিজেদের অভিযানকে সফল দেখানোর চেষ্টা করছে।
“আমাদের এলাকার বড় মাদক কারবারিরা যেন নিরাপদে কাজ করছে। আর যাদেরকে ধরছে, তারা সাধারণ ব্যবহারকারী। এতে মূল চেইন অক্ষত থাকে,” জানান এক স্থানীয় সচেতন নাগরিক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা সম্প্রতি ‘শ্রেষ্ঠ অফিসার’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, যদি অভিযান সত্যিই সফল হয়, তাহলে এত দিন কেন বড় মাদক কারবারিরা গ্রেপ্তার হয়নি।
মাদকবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধান তখনই সম্ভব, যখন সরবরাহ চেইন পুরোপুরি ভাঙা হবে। শুধুমাত্র সেবীদের আটক করা দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল দেবে না। “মূল হোতা ও ডিলারদের আইনের আওতায় না আনা হলে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যাবে,” মন্তব্য করেন এক বিশেষজ্ঞ।
অভিযান কার্যক্রমকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাবের কথাও উঠেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাদকবিরোধী কড়া অবস্থানকে সামনে রেখে কিছু কর্মকর্তারা সক্রিয়তার প্রদর্শনী করছেন বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে থানার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহল বলছেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করা জরুরি। প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব হলো প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি থেকে রক্ষা করা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বুড়িচংবাসীর একটাই দাবি—এই অভিযান কি সত্যিই মাদক নির্মূলে কার্যকর, নাকি কেবল একটি প্রদর্শনী মাত্র। এর উত্তর এখন প্রশাসনের কাছেই প্রত্যাশা করছে জনসাধারণ।


