শুক্রবার,১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দুপুরের তপ্ত রোদে ষাটোর্ধ্ব হাসেম মিয়ার শরীরটা আর সায় দিচ্ছে না

দুপুরের তপ্ত রোদ তখন মাথার ওপর খাঁ খাঁ করছে। ষাটোর্ধ্ব হাসেম মিয়ার শরীরটা আর সায় দিচ্ছে না। রাস্তার পাশের আইল্যান্ডের ওপর বসে মাথাটা নিচু করে একটু জিড়িয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। পাশেই তাঁর পুরনো রিকশাটা দাঁড়িয়ে, যেটা গত বিশ বছর ধরে তাঁর সংসারের একমাত্র চাকা ঘুরিয়ে রাখছে।
আজ সকাল থেকে মাত্র দুইটা খ্যাপ মেরেছেন। পকেটে যা আছে, তাতে রাতে চাল-ডাল হবে ঠিকই, কিন্তু মেজো মেয়েটার জন্য যে জ্বরের ওষুধ কিনতে হবে, সেই টাকাটা এখনো জোটেনি। তাঁর শরীরের চামড়া কুঁচকে গেছে, হাড়গুলো জিরজিরে—তবুও এই বয়সে প্যাডেল মারতে হয়। কারণ, তাঁর মতো মানুষের কাছে ‘অবসর’ মানেই উনুন বন্ধ থাকা।
​কিছুক্ষণ আগে একজন যাত্রী অনেক দরদাম করে রিকশা থেকে নেমে গেল। হাসেম মিয়া অবাক হন, মানুষ যখন বড় বড় শপিং মলে যায়, তখন এক টাকাও কম দেয় না; কিন্তু এক বেলা দুমুঠো ভাতের জন্য যখন একজন বৃদ্ধ রিকশা টানে, তখন দুই-পাঁচ টাকার জন্য খুব লড়াই করে।
​মাথা নিচু করে বসে থাকতে থাকতে তিনি ভাবছিলেন তাঁর ফেলে আসা দিনগুলোর কথা। এক সময় শরীরে অনেক বল ছিল, গ্রামের ক্ষেতে কাজ করতেন। কিন্তু নদী ভাঙনে জমিটুকু হারানোর পর এই শহরের পিচঢালা পথই তাঁর নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়। ধুলোমাখা লুঙ্গি আর কাঁধের গামছাটাই এখন তাঁর পরম বন্ধু।
​শহরের এই ব্যস্ততা, বড় বড় গাড়ি আর মানুষের কোলাহলের মাঝে হাসেম মিয়ার মতো মানুষেরা একেকটি ছোট দ্বীপের মতো। যে দ্বীপের চারদিকে শুধু পরিশ্রম আর অভাবের নোনা জল। একটু জিরিয়ে নিয়ে তিনি আবার গামছাটা মাথায় বাঁধলেন। রিকশার হাতলটা শক্ত করে ধরে বিড়বিড় করে বললেন, “আল্লাহ ভরসা, মেয়েটার ওষুধ তো নিতেই হবে।”
​অস্তগামী সূর্যের আলোয় ক্লান্ত হাসেম মিয়া আবার প্যাডেল দিতে শুরু করলেন। শহরের চাকচিক্যের নিচে চাপা পড়ে গেল আরেকজন রিকশাওয়ালার দীর্ঘশ্বাস।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং