স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে কয়রায় মাঠে জামায়াত,আগাম প্রস্তুতিতে গণসংযোগ শুরু

‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৭টি আসন পেয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের চূড়ান্ত করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রাতেও দলটি উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

‎প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা এবং পথসভা আয়োজনের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ভাবনা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরছেন তারা।

‎দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে কয়রা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মাহমুদা খাতুন বকুল কে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

‎এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে আমাদী ইউনিয়নে মাওলানা সাজ্জাদুল ইসলাম, বাগালী ইউনিয়নে মাওলানা সালাহউদ্দীন, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে সাংবাদিক এম. আইয়ুব আলী, মহারাজপুর ইউনিয়নে মাষ্টার সাইফুল্লাহ হায়দার, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে মাষ্টার নূর কামাল এবং দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে গাজী মো: বেলাল হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কয়রা সদর ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

‎কয়রায় প্রবীন রাজনীতিকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আগে ভাগে প্রার্থী ঘোষণা করায় মাঠপর্যায়ে সংগঠন গোছানোর সুযোগ পাচ্ছে জামায়াত। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও ভোটারদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে যোগাযোগ রক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন।

‎বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতীতেও জামায়াতের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে  দলটির  কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মাওলানা আ,খ,ম তমিজ উদ্দীন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন খালেদা খাতুন। পরবর্তী সময়ে দলটি সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিলেও ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে  চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়ে পরাজিত হন।

‎কয়রা উপজেলা জামায়াতের আমির ও ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, “প্রার্থী নির্বাচন দীর্ঘ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ছয় মাস ধরে ইউনিয়ন পর্যায়ে মতামত সংগ্রহ, গোপন ভোট এবং বিভিন্ন স্তরের পর্যালোচনার পর কেন্দ্রীয় অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ঐক্য রয়েছে।”

‎বাগালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা সালাহউদ্দীন বলেন, “তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই আমাকে প্রার্থী করা হয়েছে। ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি এবং এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছি।”

‎খুলনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা গোলাম সরোয়ার বলেন, “স্থানীয় সরকারে দক্ষ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সংগঠন আরও সুসংগঠিত হবে এবং জনগণের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছানো সহজ হবে।”

‎এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে কয়রার রাজনৈতিক অঙ্গন ইতোমধ্যে সরব হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছেন। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে বিষয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এখনো নানা আলোচনা ও প্রত্যাশা রয়েছে।

‎নির্বাচনী প্রচারণা যত এগোবে, ততই কয়রার রাজনৈতিক মাঠ আরও উত্তপ্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন