বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সেনবাগে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ১

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী সংলগ্ন বেলাল মাস্টারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার আবুল কালাম হাজী বাড়ির মো. শাহজাহানের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। এ ঘটনায় মো. হারুন (৩৫) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক হারুন একই গ্রামের জোড়া বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘীর পেছনের একটি পোলের ওপর দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি ও সেবনের আড্ডা চলত। কয়েকদিন আগে মান্না নামে এক মাদকসেবীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হারুনসহ কয়েকজনের নাম উঠে আসে। এরপর এলাকার কিছু তরুণ মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং ওই এলাকায় পাহারার ব্যবস্থা করে। এতে কয়েকদিন ধরে মাদকের আড্ডা বন্ধ ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বুধবার রাতে আলী হায়দার ফাহিম (১৮), রিফাত (২০), সাকিবসহ কয়েকজন তরুণ বায়তুন আমান মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় হারুনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আলী হায়দার ফাহিমের বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং সাকিবের ডান হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
এদিকে নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিমের নানার বাড়ি ও খালার বাড়ি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় তিনি সেদিন সন্ধ্যায় বেড়াতে সেখানে যান। পরে নানার বাড়ি থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘী এলাকায় একা পেয়ে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে। তার বাম পায়ে একাধিক কোপের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, ‘মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত হারুনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তাক্ত ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং