সুন্দরবনের ত্রাস হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত ডাকাত ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর আস্তানায় বিশেষ অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। অভিযানে দস্যুদের একটি গোপন আস্তানা ধ্বংস করার পাশাপাশি ডাকাতির সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ রসদ জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযানের মূল তথ্যসমূহ (এক নজরে):
অভিযানের সময়: সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬), ভোর ৬:০০ ঘটিকা।
স্থান: বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সীমান্ত খাল সংলগ্ন সুন্দরবনের গহিন এলাকা।
অংশগ্রহণকারী দল: কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা এবং স্টেশন হারবারিয়া।
ফলাফল: ১টি প্রধান আস্তানা ধ্বংস এবং ডাকাতির সরঞ্জাম জব্দ।
ঘটনার বিস্তারিত:
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, সুন্দরবনের মোংলা সীমান্ত এলাকায় ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর সদস্যরা সংগঠিত হয়ে অবস্থানের চেষ্টা করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও স্টেশন হারবারিয়া একটি বিশেষ অপারেশন পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালীন আস্তানাটি চিহ্নিত করে তা সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে স্মার্ট ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা বনের আরও গভীরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
জব্দকৃত মালামাল:
আস্তানা তল্লাশি করে কোস্ট গার্ড নিম্নলিখিত সরঞ্জামগুলো উদ্ধার করেছে:
ডাকাতির কাজে সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত ১টি ওয়াকি-টকি।
রান্নার কাজে ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও বিপুল পরিমাণ শুকনো খাবার।
অন্যান্য আনুষঙ্গিক মালামাল ও সরঞ্জাম।
“আমরা দস্যুদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই— সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের এই আপসহীন অভিযান অব্যাহত থাকবে। বনজীবী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সর্বদা সজাগ।” > — লেফটেন্যান্ট খালিদ সাইফুল্লাহ, (এক্স), বিএন (নির্বাহী কর্মকর্তা, বিসিজিএস অপরাজেয় বাংলা)
আইনি প্রক্রিয়া: জব্দকৃত মালামালের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে টহল আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


