সরকারি ‘বীর নিবাস’ পাইয়ে দেওয়ার নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক পরিবারের কাছ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে। অসহায় বৃদ্ধা আলেয়া বেগম এখন সেই টাকা ফেরতের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার দুদলী গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথিতযশা সাংবাদিক রজব আলীর পরিবারকে সরকারি ‘বীর নিবাস’ প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম। পরে সরল বিশ্বাসে পরিবারটি তার হাতে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা তুলে দেয়। কিন্তু সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ঘর বরাদ্দ দিলেও ওই টাকা আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগী আলেয়া বেগম জানান, তার বড় ছেলে কেএম আমিনুর রহমান ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করেছেন। স্বামী ও উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে বর্তমানে তিনি চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলেয়া বেগম বলেন,সরকার তো আমাকে বিনামূল্যে ঘর দিয়েছে। তাহলে চেয়ারম্যান কেন আমার ছেলের কাছ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিলেন? আমার ছেলে মারা গেছে, এখন ওষুধ কেনার টাকাও নেই। আমি আমার টাকা ফেরত চাই। প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু এই পরিবারই নয়—কালিগঞ্জ উপজেলার আরও অন্তত ১১ থেকে ১২টি মুক্তিযোদ্ধা পরিবার একইভাবে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন চেয়ারম্যানের প্রভাবের কারণে অনেকে মুখ না খুললেও এখন তারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম। তিনি বলেন,
“এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


