শুক্রবার,১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লোহাগড়ায় আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে নতুন আশার আলো

ফাল্গুনের কোমল স্পর্শে নড়াইলের লোহাগড়া  উপজেলা যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। প্রকৃতি সেজেছে তার আপন সাজে, আর সেই সাজের সবচেয়ে মোহনীয় অলংকার হয়ে উঠেছে আমের মুকুল।
একটি পৌরসভাসহ উপজেলার ১২টি  ইউনিয়নের গাছে গাছে এখন মুকুলের অপরূপ সমারোহ, যার সুবাসে আকাশ-বাতাস, পথঘাট আর জনপদ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এক অদ্ভুত আবেশ। বসন্তের এই অপার্থিব সৌন্দর্য যেন মুহূর্তেই বিমোহিত করে দিচ্ছে সবাইকে।
লক্মীপাশা, লোহাগড়া, নলদী, লাহুড়িয়া, নোয়াগ্রাম, শালনগর, জয়পুর, কাশীপুর, ইতনা, দিঘলিয়া, কোটাকোলের বিভিন্ন গ্রামের প্রতিটি আমগাছ এখন সেজেছে মুকুলের সোনালি আভায়। ভোরের শিশির ভেজা আলোয় যখন মুকুলগুলো ঝলমল করে  ওঠে, তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন তার নিজ হাতে এঁকেছে এক জীবন্ত ছবি। মৃদু বাতাসে দুলতে দুলতে মুকুলের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে, যা ছুঁয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি প্রেমী মানুষের মন, জাগিয়ে তুলছে গ্রামবাংলার চিরচেনা অনুভূতি।
গ্রামের সরু পথ ধরে হাঁটলে, কিংবা কোনো বাড়ির উঠানে দাঁড়ালেই মুকুলের সেই মিষ্টি গন্ধ মনকে ছুঁয়ে যায়। মনে হয়, বসন্ত যেন নিঃশব্দে এসে প্রতিটি গাছের ডালে ডালে তার ভালোবাসার চিহ্ন রেখে গেছে। কৃষক, বাগান মালিক ও সাধারণ মানুষ সবাই এই দৃশ্য দেখে আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। কারণ, আমের মুকুল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি নতুন আশারও বার্তা বহন করে।
শহরের কচুবাড়ীয়া গ্রামের কিশোর রায় বলেন, ফাল্গুনের শুরুতেই আমাদের এলাকাসহ পুরো লোহাগড়া উপজেলার গাছে গাছে আমের মুকুল ফুটেছে। চারদিকে এখন শুধু মুকুলের সুবাস আর বসন্তের আবেশ। প্রকৃতির এই রূপ সত্যিই মনকে ছুঁয়ে যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের ভালো ফলন হবে বলে আমরা আশাবাদী।
প্রকৃতি প্রেমীরা বলছেন, এই সময়টিই গ্রাম বাংলার প্রাণের সময়। আমের মুকুলের সুবাস যেন মানুষের হৃদয়ে এনে দেয় প্রশান্তি, ভালোবাসা আর নতুন দিনের স্বপ্ন। লোহাগড়ার মাঠ-ঘাট, পথ-প্রান্তর আর জনপদ জুড়ে এখন বসন্তের সেই চিরন্তন গল্প, যেখানে প্রতিটি মুকুল যেন নীরবে বলে যায়, প্রকৃতি এখনও বেঁচে আছে তার নিজস্ব সৌন্দর্যে, তার নিজস্ব আবেগে।
জেলার সিনিয়র সাংবাদিক রিফাত-বিন-ত্বহা বলেন, এ অঞ্চলের অর্থনীতি, কৃষকজীবন এবং মৌসুমি কর্মসংস্থানের সঙ্গে আমের নিবিড় সম্পর্ক। তাই বসন্ত মানেই শুধু প্রকৃতির রূপান্তর নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতারও অংশ। তবে এই সৌন্দর্যের মাঝেও কিছু উদ্বেগ রয়ে যায়। অনিয়মিত আবহাওয়া, অতিরিক্ত কুয়াশা বা অকালবৃষ্টি অনেক সময় মুকুল ঝরিয়ে দেয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই। ফলে বসন্তের এই আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকে এক ধরনের শঙ্কাও।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং