মেহেরপুর পৌর তহবাজারে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের তীব্র শিখা আর ধোঁয়ার কুণ্ডলী।
মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেল বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বপ্ন ও উপার্জনের সম্বল। তহবাজারের সবচেয়ে বড় মুদি দোকান ‘মখলেছুর ব্রাদার্সে লেগেছে এই আগুন।
গত ১৬ আগষ্ট রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঘটে যাওয়া এ অগ্নিকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৮০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারনা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে ভবনটির ভেতর থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখে প্রথম টের পান ভবনের মালিক ইমরান হোসেন। মুহূর্তের মধ্যে আ*গু*নের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়।
ইমরান হোসেন দ্রুত বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানের মালিক মখলেছুর রহমানকে জানান এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই দোকানের ভেতরের বিপুল পরিমাণ মালামাল আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত ভবন মালিক ইমরান হোসেন বলেন রাতে হুট করে নিচতলার দিক থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে নিচে নেমে আসি। এসে দেখি মখলেছুর ব্রাদার্সের ভেতর থেকে আগুনের ধোঁয়া বের হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন পরিধি বাড়তে দেখে কালবিলম্ব না করে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দিই।
সব হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মখলেছুর রহমান। অশ্রুসজল চোখে তিনি বলেন, ‘আমি মূলত পাইকারি মুদিপণ্য বিক্রি করি। প্রতিদিন দোকানে গড়ে ৬ থেকে ৮ লাখ টাকার কেনাবেচা হতো।
তিনি জানান, গুদাম ও দোকানে মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার মালামাল জমা ছিল। নিমেষেই সব শেষ হয়ে গেল।
মখলেছুর রহমান বলেন, ‘কীভাবে যে আগুনের সূত্রপাত হলো, কিছুই বুঝতে পারলাম না। এখন আমি একবারে সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম, পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
ঘটনার পর থেকে তহবাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে শোক ও চরম আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বাজারের এক স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, মখলেছুর ভাই এই বাজারের প্রাণ ছিলেন। এত বড় ক্ষতি আমরা চোখের সামনে দেখতে পারব ভাবিনি।
তিনি বলেন, ‘আগুন দেখে আমরা সবাই ছুটে আসি, কিন্তু শিখার উত্তাপে কাছে যাওয়ার উপায় ছিল না। পুরো বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন আতঙ্কে আছে।’
আরেক স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ‘রাতের বেলা খবর পেয়ে দৌড়ে এসে দেখি ধোঁয়ায় কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না। মখলেছুর ভাইয়ের দোকান মানেই ছিল এই বাজারের কেনাকাটার মূল কেন্দ্র।
তিনি আরও বলেন এক রাতেই মানুষটার সবকিছু শেষ হয়ে গেল, আমরা সরকারের কাছে তাঁর জন্য জরুরি সহায়তার দাবি জানাচ্ছি।’
তহবাজার মালিক সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান ঘটনার ভয়াবহতা উল্লেখ করে বলেন, ‘মখলেছুর রহমান শুধু আমাদের বাজারের নন, পুরো মেহেরপুর জেলার সবচেয়ে বড় মুদি পাইকারি ব্যবসায়ী।’
তিনি জানান, আগুনে পুড়ে তাঁর দোকানের অধিকাংশ মূল্যবান মালামাল ছাই হয়ে গেছে। আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী তহবাজারে অতীতে কখনো এমন মর্মান্তিক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেনি।
মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আলী সাজ্জাদ জানান, রাত ২ টার দিকে খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে দোকানের প্রচুর মালামাল ভস্মীভূত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।


