বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মাগুরা জেলা জামায়াতের আমির এম বি বাকের সাময়িক অব্যাহতিপ্রাপ্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাগুরা জেলা আমির ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ আসনের দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক এম বি বাকেরকে দ্বিতীয়বারের মতো জেলা আমিরের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর রুকনিয়াত (সদস্যপদ) আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।​শুক্রবার (১২ জুন) সকালে মাগুরা জেলা জামায়াতের দোয়ারপাড় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা শূরা ও কর্মপরিষদের সভায় এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভায় যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুবারক হোসেন উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করেন। সভায় কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও শ্রীপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. আলমগীর বিশ্বাস এবং যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল টিম সদস্য আব্দুল মতিন উপস্থিত ছিলেন।
​নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন:
​ভারপ্রাপ্ত জেলা আমির: সহকারী অধ্যাপক সাঈদ আহমেদ বাচ্চু।
​ভারপ্রাপ্ত জেলা সেক্রেটারি: সহকারী অধ্যাপক মশিয়ার রহমান।
​অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট ​দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও ২০২৫ সালের জুলাই মাসে একটি হত্যা মামলার আসামিদের জামিন সংক্রান্ত তদবিরে প্রত্যয়নপত্র প্রদানের ঘটনায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তাঁকে পদচ্যুত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁকে পুনর্বহাল করা হয়।তবে অভিযোগ রয়েছে, গত জাতীয় নির্বাচন চলাকালীন সময় থেকে তাঁর বিরুদ্ধে সংগঠনের অভ্যন্তরে বৈষম্যমূলক আচরণ, অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা এবং অর্থ তসরুফসহ নানাবিধ গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়। এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কাছে একাধিক লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে সংগঠন পরিচালনা।নির্বাচনি তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের অভিযোগ।​সালিশ ও চাকরি বাণিজ্য এবং জমি ক্রয়-বিক্রয়ে আর্থিক অনিয়ম।​গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে ব্যক্তি পছন্দ অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্বাচন।​সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগসহ সুদভিত্তিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং মতবিরোধের জেরে নেতাদের দায়িত্ব থেকে অপসারণ।এসব অভিযোগ বর্তমানে কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্ত অধ্যাপক এম বি বাকেরের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

ধর্মপাশায় ৭ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও ১ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দেখেন ১১০ প্রাথমিক বিদ্যালয়

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা একটি হাওর বেষ্টিত উপজেলা।যা আয়তনের দিকে অনেক