পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় খাবারের সাথে চেতনা নাশক ওষুধ মিশিয়ে একই পরিবারের চার সদস্যকে অচেতন করে নগদ ২ লক্ষ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
গত রাতে উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের রাজপাশা গ্রামের মৃধা বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন গৃহকর্তা হাবিবুর রহমান মৃধা ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরদিন বুধবার সকালে গৃহকর্মী কাজে এসে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ডাকাডাকি করেও কারো সাড়া না পেয়ে তিনি প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে প্রতিবেশীরা এসে হাবিবুর রহমান মৃধা (৭০), স্ত্রী হাওয়া বেগম (৫৮), পুত্র রিয়াজ হোসেন মৃধা (৩৫) এবং পুত্রবধূ ফারজানা আক্তার কে উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আক্রান্তদের মধ্যে গৃহকর্তার স্ত্রী হাওয়া বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গৃহকর্তার জামাতা জুয়েল সিকদার জানান, তার শ্বশুর বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ কাজ চলছিল। সেই খরচের জন্য ব্যাংক থেকে ২ লক্ষ টাকা তুলে ঘরে রাখা হয়েছিল। দুর্বৃত্তরা ঘরের সিন্দুক খুলে সেই নগদ টাকা এবং প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে পালিয়ে গেছে।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে খাবারের সাথে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন করে এই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আক্রান্তরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তারা পুরোপুরি সুস্থ হলে সঠিকভাবে জানা যাবে ঠিক কী কী মালামাল চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।


