বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বান্দরবানে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ালেন সংসদ সদস্য এমপি সাচিং প্রু জেরীর

বান্দরবানের সদর উপজেলার জামছড়ি ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫০টি দোকান ও বসতঘর পুড়ে গেছে।
ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অর্ধশতাধিক পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বান্দরবান ৩০০ নং আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এসময় বান্দরবান সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে বাজার এলাকায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকান ও বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে আগুন নেভাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। তবে অধিকাংশ স্থাপনা বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে নির্মিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পরে রোয়াংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, দুর্গম পাহাড়ি পথ ও সংকীর্ণ সড়কের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
জামছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যচিংশৈ মারমা জানান, আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই ছোট ব্যবসায়ী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কেউই তাদের মালামাল রক্ষা করতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪৮টি দোকান ও বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান আনসারী বলেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং আগুন লাগার উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনে তাদের বছরের পর বছর গড়ে তোলা ব্যবসা মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২২ সালে বাঘমারা বাজারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হলেন বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং