ফুলবাড়ীতে লিজকৃত পুকুর থেকে ৬ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিপূরণ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় সরকারি বিধি অনুযায়ী লিজ নেওয়া একটি পুকুর থেকে রাতের আঁধারে প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের মাছ তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মৎস্য চাষী শ্রী পূর্ণ চন্দ্র দাস।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন রাবেয়া কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে পূর্ণ চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের একটি অর্পিত সম্পত্তিভুক্ত পুকুর সরকারি নিয়মে ইজারা নিয়ে নিয়মিত ভ্যাট, কর ও অন্যান্য সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে মাছ চাষ করে আসছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পুকুরটির উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ এবং পরিচর্যায় তিনি উল্লেখযোগ্য অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করেছেন।
তিনি জানান, গত ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পুকুরের ইজারা নিলামে তিনি অংশগ্রহণ করলেও সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে অন্য একজনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। তবে নতুন ইজারার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার আগেই গত ২৭ জুলাই গভীর রাতে নুরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ও তাঁর সহযোগীরা জোরপূর্বক পুকুরে প্রবেশ করে প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের মাছ ধরে নিয়ে যান বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার সময় তিনি উপজেলা প্রশাসন ও ফুলবাড়ী থানাকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে তিনি চরম হতাশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা মাছের খামার থেকে এভাবে মাছ তুলে নেওয়ায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও জীবিকার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আগের ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুকুরটি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি কোনো মাছ লুট বা অবৈধভাবে মাছ আহরণের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর দাবি, যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, ভুক্তভোগী তাঁর কাছে সরাসরি কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি তাঁকে অবহিত করেছেন। অভিযোগকারীকে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, মাছ লুটের বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পূর্ণ চন্দ্র দাস দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং তাঁর ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, আইনের প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং প্রশাসনের নিকট ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

নিজেরাই হবেন প্রাথমিক চিকিৎসার সহায়: দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও ফার্স্ট এইড কিট বিতরণ

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও