বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রকাশ্যে চলছে ইয়াবা ব্যবসা, রহস্যজনক কারণে তবুও অধরা

রাজধানীর বনানী থানাধীন আবাসিক এলাকার মহাখালী ‘গ’ ব্লকে শাকেরিয়া মাদ্রাসা গলিতে চিহ্নিত মাদক কারবারি শরিফের দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের তালিকাভুক্ত ও সাজাখাটা এই আসামির প্রকাশ্য মাদক কারবারে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত ‘সোর্স’ শহীদের ছত্রছায়ায় শরিফ তার নিজ বাড়িতে দিনরাত ইয়াবা ও গাঁজার আসর বসাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শরিফ গুলশান ও বনানী থানার একাধিক মাদক মামলার সাজাখাটা এবং একাধিক মামলার জামিনে থাকা আসামি। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ সে গ্রেফতার হয়েছিল। জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে সে পুনরায় মাদক ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মাঝে কিছুদিন ব্যবসা বন্ধ থাকলেও বর্তমানে বনানীর আবাসিক এলাকায় তার ইয়াবা ও গাঁজার কারবার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
জানা গেছে, শরীফের বাড়িতে প্রতিদিন একাধিক চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গোপন আড্ডা চলে। মাদকের আসর বসে। বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করার পরিকল্পনা হয়।
আবাসিক এলাকায় দিনরাত মাদকাসক্ত ও বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন অভিভাবকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের সন্তানদের ঘর থেকে বের করতে ভয় লাগে। শাকেরিয়া মাদ্রাসা গলিতে গেলেই দেখা যায় অপরিচিত সব ছেলেদের জটলা। মাদক কেনাবেচা এখন এখানে ওপেন সিক্রেট। প্রতিবাদ করলে উল্টো পুলিশ দিয়ে হয়রানির ভয় দেখানো হয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, শরিফের এই অবাধ বাণিজ্যের নেপথ্যে রয়েছে বনানী থানা পুলিশের কথিত সোর্স শহীদ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো অভিযান বা নড়াচড়া থাকলেই শহীদ আগাম খবর পৌঁছে দেয় শরিফের কাছে। বিনিময়ে শরিফ তাকে বড় অঙ্কের ‘সাপ্তাহিক মাসোহারা’ প্রদান করে। এই অশুভ আঁতাতের কারণে বারবার অভিযানের পরিকল্পনা করেও ব্যর্থ হচ্ছে প্রশাসন।
আরেকজন প্রবীণ বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা এখানে শান্তিতে বাস করতে পারছি না। শরিফের বাড়িতে মাদকসেবীদের ভিড় লেগেই থাকে। এই এলাকাটা একসময় শিক্ষিত ও মার্জিত মানুষের ছিল, এখন তা মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।”
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) তেজগাঁও জোনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “শরিফের বিষয়ে আমাদের কাছেও কিছু গোপন তথ্য এসেছে। সে আগেও আমাদের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। সে যদি জামিনে বেরিয়ে আবারও একই কাজ শুরু করে থাকে, তবে দ্রুতই তার আস্তানায় কঠোর অভিযান চালানো হবে। কোনো সোর্স বা মধ্যস্থতাকারীর প্রশ্রয় এখানে কাজে আসবে না।”
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই মাদক চক্র নির্মূল করে বনানীর আবাসিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন