সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার ১ নং কুলিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বহেরা গ্রাম এখন মাদকের নিরাপদ জনপদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত চলে মাদকের রমরমা কেনাবেচা। অভিযোগ উঠেছে, এই এলাকায় শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার মাদক লেনদেন হচ্ছে, অথচ প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ ফুঁসছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
মাদকের স্বর্গরাজ্য যখন ১ নং ওয়ার্ড
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহেরা গ্রামের ১ নং ওয়ার্ড এখন মাদকের “ওপেন মার্কেট”। এখানে সুলভ মূল্যে মিলছে:
ফেনসিডিল ও করেক্স
ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট
ইয়াবা ও হেরোইন
গাঁজা
অন্ধকার নামার সাথে সাথেই বহেরা এলাকায় বহিরাগত ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এক সময়কার শান্ত এই গ্রামটি এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
ধ্বংসের কিনারে যুবসমাজ
মাদকের সহজলভ্যতার কারণে এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ আশঙ্কাজনক হারে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের চোখের সামনে যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সিন্ডিকেট এতটাই প্রভাবশালী যে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। এভাবে চলতে থাকলে সমাজকে টেনে তোলা অসম্ভব হয়ে পড়বে।”
প্রশাসনের নিস্পৃহতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে। জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে যে, পুলিশের নাকের ডগায় এতো বড় মাদকের সিন্ডিকেট চললেও তারা কেন নীরব? স্থানীয়রা কঠোর ভাষায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেন, থানায় বসে শুধু রুটিনমাফিক কাজ না করে মাঠ পর্যায়ে অভিযান চালানো এখন সময়ের দাবি।
“আমরা চাই সাতক্ষীরা জেলা মাদকমুক্ত হোক। পুলিশ প্রশাসনকে চুরির মতো অলসতা ঝেড়ে ফেলে অনতিবিলম্বে এই ১ নং ওয়ার্ড বহেরার মাদক সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিতে হবে।” — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি।
এলাকাবাসীর দাবি
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর জোরালো দাবি:
বহেরা এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা।
মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।
অত্র এলাকায় স্থায়ী পুলিশি টহল জোরদার করা।
যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপই এখন একমাত্র ভরসা।


