বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দীর্ঘ ৫ ঘন্টা আলোচনার পর বিবাদমান দুটি পক্ষের মধ্যে সমঝোতা

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা গ্রামের মালোপাড়ায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। দীর্ঘ ৫ ঘন্টা ধরে বিবাদমান দুটি পক্ষের মধ্যে আলাপ-আলোচনা শেষে বন্ধ রাস্তা বুধবার সকালে খুলে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নড়াইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে লক্ষ্মীপাশা মালোপাড়ায় বিকাল ৪ টা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৯ টা পযন্ত অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে , নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর নিদের্শনায় নড়াইলের জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লিংকন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস জানান, অনুষ্ঠিত সভায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে ওই স্থানে নির্মিত সীমানা প্রাচীরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বুধবার সকাল থেকে ব্যারিষ্টার দেদার-ই-এলাহী ওই স্থানে নির্মিত সীমানা প্রাচীর অপসারন করে নিবেন। মালোপাড়ায় জনসাধারনের চলাচলের নতুন রাস্তা নির্মান করার জন্য জায়গা ছেড়ে দিবেন। আশা করছি এই মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবত চলে আসা এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে।
শান্তি সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধাণ করা সম্ভব হয়েছে।
মালোপাড়ার বাসিন্দা ভূক্তভোগী সুশান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘দীর্ঘ আলোচনা শেষে সৃষ্ট বিষয়টি সুন্দর সমাধান হয়েছে। নতুন রাস্তার জায়গা দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট’।
সভায় উপস্থিত ব্যারিষ্টার দেদার-ই-এলাহী প্রতিনিধি মোঃ হায়দার বলেন, বিষয়টি সমাধান হওয়ায় আমরা খুশি।
শান্তি সভায় নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোঃ কামরুজ্জামান, লোহাগড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার, লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সুম্মিতা সাহা, নড়াইল-২ আসনের সদস্যের প্রতিনিধি জামায়াত নেতা জামিরুল হক টুটুল, বিএনপি নেতা টিপু সুলতান, নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাভলুসহ গণমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে  লক্ষীপাশা মৌজার সাবেক দাগ নং ২৬১ ও আর.এস ২০২৮ দাগের জমির একটি অংশ স্থানীয়দের যাতায়াতের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। যা নিয়ে  উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ১৬ এপ্রিল ওই জায়গায় প্রাচীর নির্মাণ করেন ব্যারিষ্টার দেদার-ই-এলাহীর লোকজন। এতে অন্তত ২০টি সংখ্যালঘু জেলে পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যায়। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং স্হানীয়সহ জাতীয় পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

ধর্মপাশায় ৭ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও ১ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দেখেন ১১০ প্রাথমিক বিদ্যালয়

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা একটি হাওর বেষ্টিত উপজেলা।যা আয়তনের দিকে অনেক