উত্তরাঞ্চলের লিচুর রাজধানী খ্যাত দিনাজপুর জেলায় এবার লিচুর ফলন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বাগান মালিক ও চাষীরা। গত কয়েকদিনের টানা ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে গাছ থেকে ঝরে পড়েছে বিপুল পরিমাণ কাঁচা ও আধাপাকা লিচু। ফলে যেখানে এই সময়ে লিচু বিক্রির ধুম থাকার কথা, সেখানে চাষীদের চোখে এখন কেবলই লোকসানের জল।
স্থানীয় চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর শুরুতে লিচুর মুকুল এবং গুটি বেশ ভালোই এসেছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় bumper ফলনের আশা করছিলেন তারা। কিন্তু পরিপক্ব হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টি পুরো হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে। বাতাসের তীব্রতায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ার পাশাপাশি শিলার আঘাতে লিচুর গায়ে দাগ পড়ে গেছে, যা অল্প সময়ের মধ্যেই পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
চাষীরা জানান, অনেকেই ব্যাংক বা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং চড়া সুদে দাদন খাটিয়ে বাগানে পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলেন। ফলন বিপর্যয়ের কারণে এখন সেই আসল পুঁজি তোলা নিয়েই টানাটানি তৈরি হয়েছে। বাজারে লিচুর সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা চড়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, বাগানে ফলন অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসায় সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বাগান মালিকরা।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কৃষি কর্মকর্তারা চাষীদের হতাশ না হয়ে বাগানে বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। অবশিষ্ট লিচু রক্ষা করতে তারা কিছু জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন:
- ছত্রাকনাশক স্প্রে: শিলাবৃষ্টির কারণে যেসব লিচুতে সামান্য আঘাত লেগেছে, সেগুলোতে যেন পচন না ধরে, সেজন্য দ্রুত ভালো মানের ছত্রাকনাশক (Fungicide) স্প্রে করতে হবে।
- হালকা সেচ ও ভিটামিন: গাছের গোড়ায় যেন পানি জমে না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ফল শক্ত রাখতে অনুমোদিত মাত্রায় ভিটামিন বা পিজিআর (PGR) স্প্রে করা যেতে পারে।
- দ্রুত বাজারজাতকরণ: যেসব লিচু খাওয়ার উপযোগী বা আধা-পাকা হয়ে গেছে, সেগুলো আর গাছে না রেখে দ্রুত সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় চাষীদের দাবি, এই বড় ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোনো প্রণোদনা বা সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা না হয়, তবে আগামী মৌসুমে লিচু চাষে ঘুরে দাঁড়ানো তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে।


