স্বামীর মৃত্যুর পরে সংসারের দায়িত্ব পড়ে তাহমিনার ওপর। এরপর সহায় সম্বলহীন এই নারী নিজে কাজ করে ছেলে ও মেয়েকে বড় করছেন। দিয়েছেন মেয়ের বিয়েও। বছরের পর বছর এভাবেই চলছে তাহমিনার সংগ্রাম। সংগ্রামী এই নারী পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে বসবাস করেন।
জানা যায়, হতদরিদ্র স্বামী, এক মেয়ে ও শিশু পুত্র সন্তানকে নিয়ে ছিল তাহমিনার সংসার। পরিবারের উপার্জনাক্ষম ব্যক্তি বলতে ছিল একমাত্র স্বামী। ভিটেমটিহীন সংসারের আবাস ছিল সরকারি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ধারে। হঠাৎ করেই চার-পাঁচ বছর আগে স্বামী সাফাত আলী মারা গেলে খাবারের সংগ্রহে ঘর থেকে বের হন তাহমিনা। কাজ করেন বিভিন্ন জনের বাড়িতে। কিন্তু স্বল্প এ চলছিল না সংসার। পরে তার মানবেতর জীবন দেখে পৌরসভার সাবেক মেয়র তাহমিনাকে অস্থায়ীভাবে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ দেন। এরপর প্রতিদিন ভোর থেকেই সকাল পর্যন্ত তাহমিনা পৌরসভার সড়কের সড়কে ঘুরে ময়লা পরিষ্কারের কাজ করেন। এসব ময়লা ভ্যান গাড়িতে তুলে তিনি নিজেই গন্তব্যে নিয়ে ফেলেন। এখন তাহমিনার সংসারে খাবারের কষ্ট নেই। নিজের উপার্জন দিয়ে মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন।
তাহমিনা বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে ছিলাম। এরপর পৌরসভায় কাজ পাই। এখন কোন মতে জীবন চলছে।


