বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গরু-মহিষ আর বাঁশের দখলে দোয়ারাবাজারের পূর্ব বাংলাবাজার মাঠ

​সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী বাণিজ্যিক কেন্দ্র পূর্ব বাংলাবাজারের একমাত্র খেলার মাঠটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। এক সময়ের সবুজ ঘাসে ঢাকা মাঠটি এখন পরিণত হয়েছে গরু-মহিষ এবং বাঁশ বিক্রির স্থায়ী হাটে। অব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশনের অভাব এবং দখলদারিত্বের কারণে মাঠটি শিশু-কিশোরদের জন্য পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে করে স্থানীয় কয়েক গ্রামের অন্তত হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের বিশাল এলাকা জুড়ে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ব্যবসায়ীরা যত্রতত্র বাঁশের খুঁটি গেড়ে রেখেছেন। হাটের দিনগুলোতে এখানে কয়েক হাজার গবাদিপশু কেনাবেচা হয়। মাঠের ভেতরে খুঁটি থাকায় খেলাধুলা তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হাঁটাচলাও দুপয়সার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় তরুণদের অভিযোগ, মাঠটি রক্ষায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।
​মাঠটির বর্তমান অবস্থার অন্যতম প্রধান কারণ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার চরম অভাব। সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠটি ডোবায় পরিণত হয়। বৃষ্টির পানি এবং পশুর বর্জ্য একসঙ্গে মিশে মাঠে কাদার স্তূপ তৈরি হয়েছে। পানি বের হওয়ার কোনো পথ না থাকায় কয়েক দিন টানা জলাবদ্ধতা বিরাজ করে, যা থেকে এলাকায় মশা ও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মাঠের চারপাশের এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এখন জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​এলাকার প্রবীণ ও সচেতন নাগরিকরা জানান, এই মাঠটি একসময় ছিল এলাকার ফুটবল ও ক্রিকেট উন্মাদনার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু এখনকার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।
​স্থানীয় এক কিশোর জানায়, “আগে আমরা স্কুল শেষে এখানে খেলতে আসতাম। এখন মাঠ জুড়ে শুধু বাঁশ আর গর্ত। কাদার কারণে মাঠে পা দেওয়া যায় না। এলাকার আশেপাশে স্থানীয় লোকজন জানায় আমাদের আর খেলার কোনো জায়গা নেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, খেলার মাঠ না থাকায় কিশোররা পড়াশোনার বাইরে অলস সময় কাটাচ্ছে। এতে করে তারা মাদক বা মোবাইল আসক্তির মতো নেতিবাচক পথে পা বাড়াতে পারে।
​এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হয়েছে যেন:
​অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও মাঠের ভেতর থেকে স্থায়ীভাবে গেড়ে রাখা বাঁশের খুঁটিগুলো অবিলম্বে অপসারণ করা হয়। মাঠটি সংস্কারের জন্য দ্রুত মাটি ভরাট এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।​বিকল্প হাট হিসেবে গরুর হাটের জন্য মাঠের বদলে অন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয় যাতে খেলাধুলার পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়।
​”একটি সুস্থ সমাজ গঠনে খেলার মাঠের বিকল্প নেই। পূর্ব বাংলাবাজারের এই মাঠটি দ্রুত সংস্কার করে তরুণ প্রজন্মের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় এলাকাটি তার প্রাণশক্তি হারাবে।
​স্থানীয় সচেতন মহল এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং