শুক্রবার,১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঈদের আগে শ্রমিকদের প্রাপ্য বেতন-বোনাস নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী

দেশের সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস অবশ্যই ছুটির আগেই পরিশোধ করতে হবে—এমন কড়া নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি সতর্ক করেছেন, কোনো অবস্থাতেই শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা নিয়ে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

শনিবার ঢাকার বেইলি রোডে তাঁর সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মন্ত্রী এই নির্দেশ দেন। সভায় আরএমজি এবং নন-আরএমজি সেক্টরের শ্রম অসন্তোষ নিরসনের জন্য করণীয় নির্ধারণ করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, সংসদীয় এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে। সেই তালিকার ভিত্তিতে সংসদ সদস্যরা সরাসরি কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বকেয়া বেতন ও বোনাস দ্রুত পরিশোধ নিশ্চিত করবেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও যেসব ব্যাংক ঋণ প্রদানে গড়িমসি করছে—যেমন ইউসিবিএল, ট্রাস্ট ও প্রিমিয়ার ব্যাংক—তাদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য ঋণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী বিশেষভাবে সতর্ক করেন, কিছু শ্রমিক নেতা শ্রমিকদের অহেতুক উত্তেজিত করে শিল্পখাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রশাসন সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।

পলাতক মালিকদের এবং তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এসব কারখানায় কোনো ধরনের গণ্ডগোল বা অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

মন্ত্রী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সব সময় পাশে থাকার অঙ্গীকার জানান এবং বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যেকোনো সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন উল্লেখ করেন, সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান করতে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ-র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, যিনি জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোট ২,১২৭টি কারখানা কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে ১,৯৬৪টি (৯২.৩৪%) কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে এবং ১,৫৩৫টি (৭২.১৭%) কারখানা ঈদের বোনাস দিয়েছে। তিনি বলেন, মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ বাধ্যতামূলক নয়, তবে সামর্থ্য থাকা কারখানাগুলো বেতন দেবার জন্য উসকানি তৈরি করছে কিছু শ্রমিক।

বিকেএমইএ-র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, দেশের ৮৩৪টি কারখানার মধ্যে ৫১২টি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দিয়েছে এবং ৬০৪টি ঈদের বোনাস প্রদান করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যেহেতু অধিকাংশ কারখানা বেতন-বোনাস দিয়েছে, তাই কোনো ধরনের শ্রমিক অসন্তোষের সৃষ্টি হবে না।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, আপদকালীন ফান্ড তৈরি করা গেলে সেই অর্থ দিয়ে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন, এবং গাজীপুর জেলার সংসদ সদস্যরা—মজিবুর রহমান (গাজীপুর-১), এম মনজুরুল করিম রনি (গাজীপুর-২), এস এম রফিকুল ইসলাম (গাজীপুর-৩), ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর-৫) সহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং