শুক্রবার,১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আসাদ গেট থেকে গাবতলী পর্যন্ত ফিলিং স্টেশন মনিটরিং: ডিজেল স্বাভাবিক, অকটেন চাহিদা হঠাৎ বেড়ে প্যানিক কেনার আশঙ্কা

রাজধানীর আসাদ গেট থেকে গাবতলী পর্যন্ত একাধিক ফিলিং স্টেশন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অকটেনের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্রেতাদের মধ্যে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে বারবার তেল নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

আজ ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে ফিলিং স্টেশন মনিটরিং রিপোর্টে জানা গেছে, সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশন (যমুনা ডিলার) আজ ২২,৫০০ লিটার অকটেন পেয়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন বিক্রি হতো ২৯,০০০–৩২,০০০ লিটার, বর্তমানে চাহিদা বেড়ে প্রায় ৫০,০০০ লিটারে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ক্রেতারা সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় অতিরিক্ত তেল নিচ্ছেন। মেসার্স সাহিল ফিলিং স্টেশন (যমুনা ডিলার) গতকাল রাতে ৪,৫০০ লিটার অকটেন ও ডিজেল পেয়েছে এবং আজ সকাল ৬টা থেকে ১০:৩০ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিক্রি হয়েছে। সোহরাব সার্ভিস স্টেশন লি: (যমুনা) এখানেও ৪,৫০০ লিটার অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে অকটেনের চাহিদা পাঁচগুণ বেড়ে গেছে, তবে মজুদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

খালেক সার্ভিস স্টেশন (পদ্মা) জানায়, ২০২৫ সালে যেখানে প্রতিদিন অকটেনের চাহিদা ছিল ১০,০০০–১২,০০০ লিটার, ২০২৬ সালে তা বেড়ে ২৫,০০০ লিটার। আজ তারা ৯,০০০ লিটার অকটেন ও ১৩,৫০০ লিটার ডিজেল পেয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। মোহনা ফিলিং স্টেশন (যমুনা) ২৫/০৩/২৬ তারিখে ৪,৫০০ লিটার অকটেন ও ডিজেল গ্রহণ করেছে। আজ তারা ১৩,৫০০ লিটার ডিজেল পেয়েছে। এখানেও চাহিদা আগের তুলনায় তিনগুণ বেশি। পাম্প মালিক ও কর্মচারীদের মতে, কিছু ক্রেতা অতিরিক্ত তেল মজুদ করছে এবং কিছু বাইকার অনৈতিকভাবে বারবার তেল সংগ্রহ করছে।

শাহ্ নাজ ফিলিং স্টেশন (যমুনা) জানায়, অকটেন পরিবর্তনের সময় মজুদ ছিল ১,৩০০ লিটার। বৃহস্পতিবার ৪,৫০০ লিটার অকটেন পেয়েছে এবং বর্তমানে ৯,০০০ লিটার ডিজেল মজুদ আছে। মালিক পক্ষ জানিয়েছে, ডিজেল নিয়ে কোনো সংকট নেই। এস পি ফিলিং স্টেশন (পদ্মা) ৪,৫০০ লিটার অকটেন পেয়েছে এবং ডিজেলের মজুদও সন্তোষজনক।

মনিটরিংয়ের সার্বিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রাজধানীতে ডিজেলের কোনো সংকট পরিলক্ষিত হয়নি। তবে অকটেনের হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি কিছু স্টেশনে চাপ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্রেতাদের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ এবং রিপিটেড কাস্টমারদের বারবার তেল নেওয়া পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজারে গুজব বা আতঙ্ক ছড়ালে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় মজুদ না করার এবং প্রশাসনের নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং