টাকার লোভ মানুষের রক্তসম্পর্ককেও কীভাবে অন্ধ করে দেয়, তার এক নির্মম দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে। ড্রাইভিং কাজের ভালো বেতনের স্বপ্ন দেখিয়ে নিজের আপন ভাগনাকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে চরম বিপদে ফেলেছেন এক দালাল। মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিলেও ভাগনাকে দেওয়া হয়নি কোনো কাজ, করা হয়নি বৈধ আকামাও (বসবাসের অনুমতি)। বর্তমানে সৌদি আরবের মাটিতে এক প্রকার বন্দী ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন সেই অসহায় যুবক।
ভুক্তভোগী যুবকের নাম মোঃ অলিউর রহমান। তিনি সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার খড়িয়াটি গ্রামের মোঃ ওয়াজেদ আলীর ছেলে।
ঘটনার বিবরণ:
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ড্রাইভিং পেশায় ভালো উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে অলিউর রহমানকে সৌদি আরব পাঠানোর প্রস্তাব দেন তার আপন মামা (দালাল)। মামার কথামতো সুদিনের আশায় পরিবারটি বিভিন্ন উৎস থেকে চড়া সুদে ও ধার-দেনা করে ওই দালালের হাতে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে দেয়।
গত কিছু দিন আগে অলিউর রহমান সৌদি আরবে পৌঁছালেও সেখানে গিয়ে তার স্বপ্নের দুনিয়া ওলটপালট হয়ে যায়। কর্মস্থলে পৌঁছানোর পর জানা যায়, তার জন্য কোনো ড্রাইভিং কাজের ব্যবস্থাই করা হয়নি। এমনকি দেশটিতে আইনসম্মতভাবে থাকার জন্য সবচেয়ে জরুরি দলিল ‘আকামা’ পর্যন্ত করে দেয়নি ওই দালাল মামা।
**বর্তমান পরিস্থিতি:**
বৈধ কোনো নথিপত্র (আকামা) না থাকায় অলিউর রহমান এখন সৌদি আরবে সম্পূর্ণ অবৈধ ও ফেরারি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বাইরে বের হলেই পুলিশে গ্রেফতার হওয়ার তীব্র আতঙ্ক, অন্যদিকে কোনো কাজ না থাকায় খাবার ও মাথা গোঁজার ঠাঁই জোগাড় করাও তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সংযুক্ত “31411.jpg” ফাইলে ভুক্তভোগী অলিউর রহমানের ছবি দেখা যাচ্ছে, যিনি বর্তমানে সুদূর প্রবাসে এই চরম মানবিক সংকটের মুখোমুখি। নিজের আপন মামার এমন জঘন্য প্রতারণায় অলিউরের খড়িয়াটি গ্রামের পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
নাম: মোঃ অলিউর রহমান
পিতা: মোঃ ওয়াজেদ আলী
গ্রাম: খরিয়াটি
উপজেলা: আশাশুনি
জেলা: সাতক্ষীরা
পরিবারের আকুতি ও দাবি:
অলিউর রহমানের পরিবার অবিলম্বে এই প্রতারক দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আদায়কৃত টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সাথে, কোনো কাজ ও আকামা ছাড়া প্রবাসে আটকে থাকা অলিউর রহমানকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে তারা বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


