আলফাডাঙ্গায় গৃহবধূকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি জাবেদুল ইসলাম ও সন্তানদের

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মিঠাপুর গ্রামের, মৃত সামচুল হকের ছেলে জাবেদুল ইসলাম (বিসু)-এর বিরুদ্ধে, তার স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার, অভিযোগ এনে ফরিদপুরের বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিথ্যা মামলা, দায়ের করেছেন নিহত গৃহবধূর বাবা মোঃ মোশারফ।
 তবে এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন জাবেদুল ইসলাম ও তার ছেলে-মেয়েরা।
জাবেদুল ইসলামের ছেলে খালিদ হাসান বলেন, তার বাবা বিদেশে থেকে উপার্জিত অর্থ, মায়ের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠাতেন। সেই হিসাব থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা জমি ক্রয়ের কথা বলে নানা-নানী ধার হিসেবে নেন। পরবর্তীতে তার বাবা টাকার হিসাব চাইতে তার মা সন্তানদের নিয়ে নানা-নানীর বাড়িতে যান। সেখানে টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, গালিগালাজ ও মারধরের ঘটনা ঘটে এবং, পরে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
খালিদ হাসান আরও দাবি করেন, তার বাবার বিরুদ্ধে আনা পরকীয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, “আমার বাবা কখনো আমার মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেননি। বাবা-মায়ের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। আমরা দীর্ঘদিন সৌদি আরবে বাবা-মায়ের সঙ্গেই ছিলাম। বাবা আমার মাকে তিনবার হজ করিয়েছেন। তিনি মাকে দেশে পাঠাতে চাননি, কিন্তু মা আমাদের নিয়ে দেশে চলে আসেন। নানা-নানী এবং মামা-মামিদের মানসিক নির্যাতনের কারণেই আমার মা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বাবা এখনও বিদেশে রয়েছেন। বিভিন্ন মহল থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দেশে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। আমি ও আমার ছোট বোনের দেখাশোনার স্বার্থে আমাদের সম্মতিতেই বাবার দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে। আমাদের সৎ মাকে আমরা পছন্দ করি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গেও আমরা একমত নই। এ ঘটনায় বাবার কিংবা আমাদের সৎ মায়ের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।”
জাবেদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী আমার অত্যন্ত প্রিয় মানুষ ছিলেন। আমাদের মধ্যে খুবই ভালো সম্পর্ক ছিল। শ্বশুরকে জমি কেনার জন্য দেওয়া ৬ লাখ টাকার বিষয়টি আমি আগে জানতাম না। পরে টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে আমার স্ত্রী শুধু বলেছিলেন, ‘টাকা আছে, সমস্যা নেই।’ পরে তিনি ছেলে-মেয়েদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে গেলে সেখানে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়, যা আমি সন্তানদের মাধ্যমে জানতে পারি।”এবং আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করার পরে, আমার শ্বশুর মোশারফ হোসেন  আমার স্ত্রীর, এবং আমার মেয়ের জন্য রাখা,  সাড়ে ১১  ভরি স্বর্ণ ও নগদ পঁচিশ হাজার টাকা আমার বাড়ি থেকে, না জানিয়ে নিয়ে যায়। তার প্রমাণও আমার কাছে আছে,এবং সেলিম মামা আমারে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে, এবং ভয় ভীতি দেখাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমার বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে আমার আগে কখনো পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল না। তার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও গুজব। আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এবং তাদের অনুরোধে, মুরব্বিদের সঙ্গে আলোচনা করে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিদেশে অবস্থান করেই দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। এর বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
জাবেদুল ইসলাম ও তার সন্তানরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং,  তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিরপেক্ষ বিচার ও মিথ্যা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন