শুক্রবার,১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আদালতের রায় উপেক্ষা করে মুক্তাগাছায় ডিক্রিপ্রাপ্ত জমিতে তাণ্ডব ও বৃক্ষনিধন

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় আদালতের চূড়ান্ত রায় ও ডিক্রি তোয়াক্কা না করে মালিকানা প্রাপ্ত জমিতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা ও নজিরবিহীন বৃক্ষনিধনের অভিযোগ উঠেছে। ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের রায় অমান্য করে পরাজিত পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই তাণ্ডব চালায় বলে জানা গেছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও চূড়ান্ত রায়
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার মহিষতারা মৌজার ৪৯৮২ দাগের ১ একর ৯৪ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২০১৩ সালে জনৈক আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে ময়মনসিংহ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৫৮৭৩/২০১৩)। দীর্ঘ এক যুগের আইনি লড়াই শেষে গত ২৯/০১/২০২৩ ইং তারিখে ময়মনসিংহ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের যুগ্ম জেলা জজ জনাব মোঃ হাফিজ আল আসআদ মামলাটির চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। আদালত বাদীর দাবি নাকচ করে দিয়ে বিবাদী আব্দুল আজিজ, আব্দুল কাদের, আব্দুল মান্নান ও হাসমত আলী—এই চারজন বিবাদীর পক্ষেই চূড়ান্ত মালিকানা স্বত্ব নিশ্চিত করে ডিক্রি প্রদান করেন।
বর্বর হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের মাধ্যমে বৈধ ডিক্রি পাওয়ার পর বিবাদীগণ উক্ত জমিতে বাগান গড়ে তোলেন এবং ভোগদখলে থাকেন। কিন্তু গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে পরাজিত পক্ষ আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উক্ত জমিতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে বাগানের প্রায় ১০০টি কলাগাছ, ২০টি আকাশমণি, সুপারি ও সজিনা গাছ কেটে সাবাড় করে দেয়। এছাড়া জমির নিরাপত্তায় ব্যবহৃত ২০০টি সিমেন্টের খুঁটি ও জিআই তারের বেড়া উপড়ে ফেলে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই ধ্বংসযজ্ঞে তাদের আনুমানিক ২ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও সেনা কর্মকর্তার বক্তব্য
এ ঘটনায় থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের অন্যতম আবেদনকারী আব্দুল কাদেরের ছোট ভাই, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল মান্নান বলেন, “আমরা চার ভাই দীর্ঘ ১২ বছর আইনি লড়াই করে ডিক্রি পেয়েছি। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহলের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তারা আমাদের ওপর এই বর্বর হামলা চালিয়েছে। তারা ৫ই আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এবং একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব খাটিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।”
ভুক্তভোগী আব্দুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আদালতের রায় থাকার পরও আমরা এখন নিজ জমিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
প্রশাসনের পদক্ষেপ
এ ঘটনায় মুক্তাগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশারফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। আইনবিদদের মতে, ডিক্রিপ্রাপ্ত জমিতে এমন হামলা সরাসরি আদালত অবমাননা ও দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধের শামিল। ভুক্তভোগী পরিবারটি জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং