মাগুরার আড়পাড়া বাজারে এখন চলছে চরম নৈরাজ্য আর লুণ্ঠন। সরকারি নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইজারাদারের নামধারী একটি চাঁদাবাজ চক্র সাধারণ মানুষের ওপর খড়্গহস্ত হয়ে উঠেছে। সপ্তাহে মাত্র দুদিন (শনিবার ও বুধবার) হাটবার থাকলেও, এই চক্রটি সাত দিনই সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। এদের কাছে আইন বা নিয়মের কোনো স্থান নেই, এদের একটাই লক্ষ্য—রক্তচোষা খাজনার নামে দিনমজুর ও কৃষকদের সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এক ভয়াবহ চিত্র:১.‘বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’-এর এক অসহায় ভ্যানচালক, যিনি দিনমজুর হিসেবে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে মাত্র ৬২০ টাকা আয় করেন, তাকেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। হাটে পণ্য নিয়ে প্রবেশের সাথে সাথেই তার কাছে দাবি করা হয়েছে ১২০ টাকা খাজনা! একজন দিনমজুরের প্রতিদিনের আয়ের বড় একটি অংশ এভাবেই ইজারাদারের ক্যাশবাক্সে ঢুকে যাচ্ছে, অথচ দেখার কেউ নেই।২. মুরুব্বীর চোখের জল আর সরকারি লুণ্ঠন:
একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বী পরম মমতায় নিজের গাছের ৪ কেজি আম বাজারে বিক্রি করতে এনেছিলেন। সারাদিনের কষ্টের বিনিময়ে তিনি যেটুকু টাকা পেয়েছিলেন, ইজারাদারের লোকজন তার চেয়েও বেশি, অর্থাৎ ৩০ টাকা খাজনা হিসেবে কেড়ে নিয়েছে! নিজের গাছের আম বিক্রি করেও তাকে উল্টো পকেট থেকে টাকা দিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। এর চেয়ে নির্মম পরিহাস আর কী হতে পারে?
৩. ইজারাদারের গুন্ডাতন্ত্র চাঁদাবাজ চক্রের মূলহোতারা প্রতিদিন বাজারে মহড়া দেয়। প্রতিবাদ করার সাহস কারোর নেই, কারণ প্রতিবাদ করলেই নেমে আসে হুমকি-ধমকি আর পণ্য ফেলে দেওয়ার মতো নোংরা আচরণ। প্রশাসনের চোখের সামনেই এই লুণ্ঠন চললেও, যেন দেখার মতো কেউ নেই।
উপসংহার:আড়পাড়া বাজার কি ইজারাদারের ব্যক্তিগত রাজত্ব? নাকি এটি কোনো সরকারি বাজার? একজন দিনমজুরের পেটে লাথি মেরে এভাবে যারা সম্পদের পাহাড় গড়ছে, তারা কি আইনের ঊর্ধ্বে? আমি অবিলম্বে মাগুরা জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি—অনতিবিলম্বে এই অবৈধ খাজনা আদায় বন্ধ করুন। অসহায় দিনমজুর ও কৃষকদের ওপর এই নির্যাতনের বিচার করুন এবং এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। নাহলে এই সাধারণ মানুষ একদিন রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হবে।


