পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই উপজেলা জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।
দিনের শুরুতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সমবেত হন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তারের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে হাতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না, উপকৌশলী কর্মকর্তা বাকি বিল্লাহ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল হালিম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হোসাইন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুবীর কুমার দত্ত, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম নাজিম উদ্দীন, সমাজসেবা কর্মকর্তা ইসমত জেরিন, মাধ্যমিক শিক্ষা একাডেমিক সুপারভাইজার শিপ্রা রানী মন্ডল, প্রাথমিক শিক্ষা সুপারভাইজার রেজাউল করিম, আইসিটি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান, সমবায় কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানাসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
র্যালি শেষে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার পান্তা ভাতের সঙ্গে দেশি মাছ ও ভর্তাসহ গ্রামীণ নানা খাবারের সমাহারে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা উৎসবের স্বাদ উপভোগ করেন। এতে গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়।
পরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্য ও আবৃত্তি দর্শকদের মুগ্ধ করে। পল্লীগীতি ও লোকজ পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
এ সময় দেবোত্তর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহমুদা মায়া, দেবোত্তর কবি বন্দে আলী মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব এবং এটি আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, “বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা আমাদের শেকড়, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন করে উপলব্ধি করি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয়েছে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি সুন্দর আয়োজন উপহার দেওয়ার। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।”
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক বলেন, “নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক ছিল। র্যালি ও সকল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা সকলের সম্মিলিত সহযোগিতার ফল।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না বলেন, “বাংলা নববর্ষের সঙ্গে কৃষি ও গ্রামীণ জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নতুন বছর মানেই নতুন ফসলের আশা ও সম্ভাবনা। কৃষকদের পরিশ্রমেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে।”
সার্বিকভাবে, দিনব্যাপী এই আয়োজন আটঘরিয়া উপজেলাবাসীর মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। গ্রামীণ আবহে এমন আয়োজন মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


