টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযানে আটক হওয়া এক ট্রলার মাঝি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দিলেও স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে তার সম্পর্কে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আটক ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম আনিছ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাংবাদিকদের কাছে নিজের পরিচয় গোপন করে “মো. ইউনুছ” নামে পরিচয় দিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, আনিছ কক্সবাজারের খুরুশকুল এলাকার রাস্তার মাথার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সাগরপথে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্যমতে, অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী একাধিক ব্যক্তিকে সমুদ্রপথে পাঠানোর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ভুক্তভোগীদের কয়েকজন অভিযোগ করেন, বিদেশে পাঠানোর নামে অনেককে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় বাধ্য করা হয়েছে। মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের নির্যাতনের বিভিন্ন তথ্য ও ভিডিওও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে বলে দাবি করেন তারা।
জানা গেছে, আনিছ একজন অভিজ্ঞ ট্রলার মাঝি ও দক্ষ ইঞ্জিন মিস্ত্রি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিনের সমুদ্রযাত্রার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি মানবপাচার কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খুরুশকুল এলাকায় তার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ রয়েছে বলেও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
এদিকে কোস্ট গার্ডের অভিযানে আনিছ আটক হওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা মানবপাচার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সচেতন মহল মনে করেন, মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


