বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অ্যাকশন মোডে সাতক্ষীরা প্রশাসন: জলদস্যু দমন থেকে জেলি পুশ—ছাড় পাবে না কেউ

 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রবিবার সকালটা ছিল টানটান উত্তেজনার। জেলার শীর্ষ আইন-প্রণেতা আর প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হলো মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা। শুধু রুটিনমাফিক আলোচনা নয়, বরং জেলার প্রতিটি সমস্যার মূলে কুঠারাঘাত করতে রীতিমতো হুংকার শোনা গেল এই সভায়।
জলদস্যু ও চাঁদাবাজদের ‘রেড সিগন্যাল’
সুন্দরবনের গহীনে যারা আবারও জলদস্যুতার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য সভার বার্তা ছিল পরিষ্কার—‘জিরো টলারেন্স’। সভায় স্পষ্ট জানানো হয়, সুন্দরবনকে বনদস্যু মুক্ত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের পকেট কাটা চাঁদাবাজদের রুখতে প্রশাসন এখন থেকে আরও কঠোর অবস্থানে। কেবল অভিযান নয়, জনসচেতনতা বাড়িয়ে অপরাধীদের সামাজিক বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
শহর বাঁচানোর মহাপরিকল্পনা
শহরবাসী অতিষ্ঠ যানজটে? সমাধানের পথ বাতলে দিলেন নীতিনির্ধারকরা।
বাস টার্মিনাল আউট: যানজট কমাতে বাস টার্মিনাল শহর থেকে বাইরে সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসছে।
ট্রাক স্ট্যান্ড: এলোমেলো ট্রাক পার্কিং বন্ধে নির্ধারিত ট্রাক স্ট্যান্ড স্থাপনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জলাবদ্ধতা মুক্তি: সাতক্ষীরার চিরচেনা শত্রু ‘জলাবদ্ধতা’ দূর করতে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা।
চিংড়িতে জেলি আর মাদক: রুখবেই প্রশাসন
সাতক্ষীরার সাদা সোনা খ্যাত চিংড়িতে যারা ‘জেলি পুশ’ করে জেলার সুনাম নষ্ট করছে, তাদের জন্য দুঃসংবাদ। সভায় ভোক্তা অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত ঝটিকা অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাদকসহ যাবতীয় সামাজিক অবক্ষয় রুখতে জেলাবাসীকে সাথে নিয়ে প্রশাসন মাঠে নামছে।
কুরবানির হাট ও জননিরাপত্তা
সামনে কুরবানি, তাই পশুর হাট স্থাপন ও নিরাপত্তা নিয়ে আগাম ছক কষে ফেলেছে কমিটি। জাল টাকা আর দালাল চক্রের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে তৎপর থাকবে বিশেষ টিম।
হাজির ছিলেন যারা
জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে এই হাই-ভোল্টেজ সভায় সাতক্ষীরার চার সংসদ সদস্য—অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ (সাতক্ষীরা-১), মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক (সাতক্ষীরা-২), হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাসার (সাতক্ষীরা-৩) এবং গাজী নজরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা-৪) উপস্থিত থেকে জনস্বার্থে কড়া মতামত তুলে ধরেন।
এছাড়াও সভায় সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুর রহমান, জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
শেষ কথা: সভার আলোচনা যদি বাস্তবে রূপ পায়, তবে সাতক্ষীরা হবে দেশের অন্যতম নিরাপদ ও আধুনিক জেলা—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। এখন দেখার বিষয়, সভার এই ‘কড়া দাওয়াই’ মাঠে কতটুকু কার্যকর হয়!

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন